একটি মাত্র ভাইরাসে বিঘার পর বিঘা জমির ধান শেষ চৌগাছার কৃষকের স্বপ্ন হলো ভঙ্গ

0
150

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় ব্লাস্ট ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকরা তেমন কোন সহযোগীতা পাইন বলে অভিযোগ। ফলে মুহুর্তে আকাশসম স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে কৃষকের। সামনের দিন গুলোতে কি ভাবে চলবে সেই চিন্তায় বিভোর সকলেই।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চৌগাছাতে সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে নানা জাতের বোরো ধানের চাষ করেছেন কৃষক। এরমধ্যে উফশি- ব্রি ধান ২৮, ৫০, ৫৮, ৬৩, ৮৯, ৮৮, ৮১, ৯২ এবং বঙ্গবন্ধু ১০০ জাতের ধান চাষ হয়েছে। এছাড়া রড মিনিকেট ও সুভলতা ধানের চাষের পাশাপাশি হাইব্রড জাত তেজগোল্ড, হাইব্রিড-৩ ও ৫ জাতের ধানের চাষ হয়েছে।
ধান রোপন থেকে শুরু করে শীষ বের হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া ছিলো বোরো চাষের অনুকুলে। সে কারনে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মাঠ গুলোতে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করেন সকলে। ধানের ভালো ফলন হবে এই আশায় হাজারও স্বপ্নে বিভোর ছিলেন কৃষক। ধান উঠার পর দায় দেনা পরিশোধের পাশাপাশি অনেক কিছুই করার স্বপ্ন নিয়ে দিন পার হচ্ছিল তাদের। আর মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই ধান ঘরে আসার কথা, কিন্তু হঠাৎ এক ভাইরাসে সব কিছুই যেন এলোমেলো করে দিয়েছে গ্রামের হত দরিদ্র এসব কৃষকের। ভাইরাসে যে ভাবে আক্রান্ত হচ্ছে তাতে ১ বিঘা জমিতে ৭/৮ মন ধান হবে কিনা সন্দেহ মনে করছেন চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর পাওয়া গেলেও জগদীশপুর, মুক্তদাহ, বিশ্বনাথপুর গ্রামের মাঠে এই ভাইরাস ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আগামীতে কি ভাবে কৃষক দায় দেনা পরিশোধ ও পরিবার পরিজন নিয়ে বেচে থাকবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
গতকাল (১১ এপ্রিল) বিকেলে জগদীশপুর ও বিশ্বনাথপুর গ্রামের কুঠিরমাঠ, মড়মড়ে, বাঘগাড়ি, দক্ষিন মাঠসহ বেশ কিছু মাঠ ঘুরে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ধান নষ্টের দৃশ্য দেখা মেলে। এ সময় কথা কৃষক আইনাল হক, হযরত আলী, রোকনুজ্জামান, রবিউল ইসলাম, কাশেম, মুরাদ আলী, শামীম হোসেন, আক্তার হোসেন, আশানুর রহমান, গোপাল, কানু দাস, রফিউদ্দিনসহ বেশ কিছু কৃষকের সাথে। কৃষকরা জানান, ধান রোপনের পর হতে কোনই সমস্যা ছিলোনা। এমনকি শীষ বের হওয়ার সময় ধানের কোন সমস্যা দেখেনি। যখনই শীষে ধান হওয়ার উপক্রম হতে থাকে সেই সময়ে প্রতিটি শীষ সাদা হয়ে শুকিয়ে যায়। এক দু বিঘা না বিঘার পর বিঘা ধানের এই পরিস্থিতি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তৈরী করা ধান অনেক চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেনি। কৃষকরা অভিযোগ করেন, কৃষি অফিস থেকে ধান রক্ষায় তেমন কোন সহযোগীতা পাওয়া যাইনি। ধানের এই পরিস্থিতি দেখে অনেক চাষি ধান গাছ বুকের সাথে আগলে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
কৃষকের অভিযোগের বিষয়ে জগদীশপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, আমি নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করার পাশাপাশি কৃষককে নানা ভাবে সহযোগীতা প্রদান করি। ধানের ভারাসের ব্যাপারেও কৃষককে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে এবং যোগাযোগ অব্যহত আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন বলেন, মুলত বিআর-৬৩ জাতের ধানে ব্লাস্ট ভাইরাস দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বাতাসে আদ্রতা বেড়ে যাওয়া মুহুর্তে ধানের শীষ বের হচ্ছে। এছাড়া যখন ধানের শীষ বের হওয়ার উপক্রম হয় ঠিক তখন একটি বড় বাতাস তৈরী হয়েছিল। এসব কারনে ধান ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে কৃষককে ধান ক্ষেতে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি রাখার পাশাপাশি ধানে ছত্রাকনাশক ও পটাশ স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here