কালীগঞ্জে গরু-ছাগলের হাট নিয়ে উত্তেজনা আতঙ্কে সাধারণ মানুষ, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

0
151

স্টাফ রিপোর্টার ,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজারের গরু-ছাগলের হাট নিয়ে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রæপের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আর এতে আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ মানুষ। এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। বারবাজার এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ।
জানা গেছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এই হাটটি পেয়েছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের একান্ত সহকারী এম.এ রউফ। তাকে হাট পরিচালনার কাজে সহযোগিতা করতেন বারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বারবাজার এলাকার গরু-ছাগলরে হাট পেয়েছেন রিমশা এন্টার প্রাইজ এর মালিক মহিউদ্দিন বিশ^াস। তিনি এ হাট পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন খান ও কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে। পহেলা বৈশাখে মূলত হাটের দায়িত্ব্ বুঝে নেওয়ার দিন ধার্য থাকে।
গত ৫ এপ্রিল বারবাজার হাট নিয়ে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে ঝিনাইদহ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্বরণাপন্ন হন বারবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হায়াৎ মাহমুদ খান। তিনি বারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ গ্রæপের ১৬ জন ও কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন খান গ্রæপের ১৬ জনের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান করেন। আদালত ১২ এপ্রিল কোন প্রকাল সংঘর্ষে জড়ানো যাবে না শর্তে তাদের মুচলেকা গ্রহণ করেন।
গত রোববার (৯ এপ্রিল) বারবাজার এলাকার সাদিকপুর থেকে ১০টি ঢাল উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু এঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি। স্থানীয়রা জানায়, এই ঢালগুলো হাট দখলে মারামারির কাজে ব্যবহার করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মেহেদী জামান মনির তৈরি করছিলেন। তিনি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের জামাই। এরপর থেকেই দুটি গ্রæপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এরপর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
শুক্রবার সরেজমিন বারবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বারবাজার গরু-ছাগলের হাটসহ বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ। এছাড়াও যেকোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে মাঠে রয়েছে পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও। বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের রাজনৈতিক কার্যালয়, গরু-ছাগলের হাটসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
বর্তমানে হাট দেখাশোনার দায়িত্ব পাওয়া কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন খান বলেন, হাটের দায়িত্ব বুঝে না দিতে ঢাল-সড়কি বানাচ্ছিল কালাম চেয়ারম্যানের লোকজনেরা। পুলিশ ইতিমধ্যে ঢাল উদ্ধার করেছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে হাটের দায়িত্ব বুঝে নিতে চান এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
বারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাদেরই আরেকটি গ্রæপ এবছর হাট দেখাশোনার দায়িত্ব পেয়েছেন। যা ধারনা করছে মানুষ তেমন কোন কিছুই হবে না। সবাই মিলেমিশে হাট পরিচালনা করা হবে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্যা জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বারবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেও টহলে রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here