বর্ষবরণে যশোরে বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা

0
148

যশোর : ঢাকের বাদ্যি, বাঁশি, কাসি, খোল, মন্দিরার তালে পুতুল, পরী, বৃক্ষ, পাখা, ডোঙ্গা, হাস, বায়োস্কোপ থেকে পদ্মা সেতুর আদলে তৈরী সেতুসহ নানা উপকরণে মাতোয়ারা ছিল টাউনহল মাঠ। রাজা, বাদশাহ, হাতি, ঘোড়া, ধানের গোলা, মাছ, পাখি, প্রজাপতি, পালকির সাথে অশুভের বিনাশে মঙ্গলের আহবানে মুখরিত ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। টাউন হল মাঠ থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি। তবে প্রাণের এ উৎসবের মাঝেও ছিল স্বজন হারানোর বেদনার সুর। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে মুসলিম একাডেমি মাঠে নিজ সংগঠন পুনশ্চের অনুষ্ঠানে আর টাউন হল মাঠে সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠানের মঞ্চে থাকলেও আজ তিনি ছিলেন সব সংগঠনের অনুষ্ঠানেই। ‘ তুমি রবে নিরবে হৃদয়ে মম’ শিরোনামে সদ্য প্রয়াত সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস ছিলেন প্রতিটি আয়োজনে। কালো শোক ব্যাচ ধারণ আর বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে প্রতিটি মঞ্চেই। সমগ্র অনুষ্ঠানই উৎসর্গ করা হয়েছে প্রয়াত সংস্কৃতিজন সুকুমার দাসকে। নানা বর্ণিল আয়োজনে যশোরে উদযাপিত হয়েছে বঙ্গাব্দ ১৪৩০ এর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সকাল থেকে শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে টাউন হল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে বর্ষবরণের আয়োজন করে সুরবিতান সঙ্গীত একাডেমি। ৬ টা ৩১ মিনিটে মুসলিম একাডেমি মাঠে পুনশ্চ, সকাল ৭ টায় ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল মাঠে তীর্যক, ৭ টা ১ মিনিটে পৌরপার্কে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সকাল সাড়ে ৭টায় টাউন হল মাঠে সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোট অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ৯টায় টাউন হল মাঠ থেকে সম্মিলিক সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি, যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার ও মঙ্গল শোভাযাত্রার স্রষ্টা চিত্রশিল্পী মাহবুব জামাল শামীম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত অধ্যাপক সুকুমার দাসের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রাটি টাউন হল মাঠ থেকে শুরু হয়ে জেলা পরিষদের সামনে দিয়ে দড়াটানা হয়ে চিত্রা মোড় দিয়ে ঘুরে টাউন হল মাঠে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নান্দনিক অংশগ্রহণে সেরা দশ সংগঠনের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। এস এম সুলতান ফাইন আর্টস, চারুপীঠ, চারুতীর্থ, থিয়েটার ক্যানভাস, পূজা উদযাপন পরিষদ, নব কিশলয় স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল, নন্দন এবং চাঁদের হাট অনন্য উপস্থানের স্বীকৃতি লাভ করে। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটলেও প্রাণের মহামিলন যেন শেষ হয়েও শেষ হয়না। পারস্পারিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন আর নির্মল আড্ডায় বেলা কেটে যায় অনেকের। সবার কণ্ঠেই অনুরণিত হয়েছে পুরোনো জরাজীর্ণ মলিনতাকে পিছে ফেলে নতুনের জয়গানে মঙ্গল আর সমৃদ্ধি কামনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here