রাসেল মাহমুদ : যশোর অঞ্চলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও চিন্তিত ও হতাশাগ্রস্থ কৃষকেরা। চাষীদের জীবনে নতুন ধান কেটে ঘরে তোলা নিয়ে আনন্দের পরিবর্তে বিষাদে পরিণত হয়েছে। কারণ যশোর সদর উপজেলা রূপদিয়া অঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায় সঠিক সময়ে ও ন্যায্য মূল্যে শ্রমিক পাওয়া নিয়ে চরম বেগ পোহাতে হচ্ছে গৃহস্থদের। কয়েক বছর পূর্ব থেকে দেখা দিয়েছে চরম শ্রমিক সংকট। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না কৃষক। শুধু তাই নয়, এক মণ ধানের দাম দিয়েও মিলছে না একজন শ্রমিকও। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় হাজারো কৃষকের। সরেজমিনে যশোর সদর উপজেলার রূপ দিয়ার শ্রমিক বেচাকেনার হাটে গিয়ে দেখা গেছে শ্রমিক সংকটের চিত্র। যে কয়জন আছেন তাঁরা ১ বিঘা জমির ধান কাটতে ১ হাজার ২’শ টাকা পর্যন্ত চাচ্ছে। কিন্তু রূপদিয়া বাজারে প্রকার ভেদে কয়েকদিন ধরে ধানের মণ বিক্রয় হচ্ছে
৯০০-১১০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু তার বিপরীতে একজন শ্রমিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা চাওয়ায় কৃষকেরা চরম হতাশায় ভুগছে। বাঘারপাড়া উপজেলার রামকান্তিপুর গ্রামের কৃষক শওকত আলী বলেন- মাঠে আমার ৫২’শতকের ৮বিঘা জমিতে পাকা ধান রয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকতে থাকতে ঘরে তুলতে না পারলে মাঠের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাবে আমার পাকা ফসল। স্থানীয় শ্রমিকদের না পেয়ে বাধ্য হয়ে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারের এই শ্রমিক বেচাকেনারহাটে এসেছিলাম। কিন্তু তারা শুধুমাত্র কেটে বেঁধে মাঠেই ফেলে রাখবে এর জন্য ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত দাম চাচ্ছে। থাকতে দেয়ার পাশাপাশি সাথে দুই বেলা খাবারো দিতে হবে। এতে গৃহস্থদের শুধু ধান কাটাতেই চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যান্য খরচ যেমন জমি চাষ, সেচ, চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচতো আছেই। সে হিসাবে আমার বিঘা প্রতি জমিতে প্রায় ২-৩ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে। ধান কাটা শ্রমিক খুলনা জেলার কয়রা গ্রাম থেকে আসা শ্রমিক আব্দুস সালাম, আঃ রহিম, হাফিজুর ও নওয়াব আলী বলেন, ‘আমি আবুল খায়েরের সঙ্গে (মালিক) ধান কাটার জন্য দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা করে পাঁচ দিনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। দুপুরে-রাতে ভাত খাওয়া ও সকালের নাস্তা মালিক বহন করবেন। ধানের চাহিদা না থাকায় দাম হঠাৎ কমে গেছে। নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের জিরাট গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক ফারুক বিশ্বাস ৫-৬ জন শ্রমিক নিয়ে বোরো ধান কাটছেন। তিনি বলেন, ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া খুব কষ্টের। পেলেও তাঁদের মজুরি উচ্চমূল্যের। শ্রমিকদের মাথাপিছু দেওয়া লাগছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। তারপর খাবার তো আছেই। তাই আগামী মৌসুমে আর বোরো চাষাবাদ করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতিমা রানী বলেন, বোরো আবাদের জন্য এবার সবকিছুই অনুকূলে ছিল। বিদ্যুৎ, পানি, সার, বীজ কোনো কিছুরই সমস্যা ছিল না। চলতি মৌসুমে ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক সংকট থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিনে কৃষকদের সহজভাবে ধান কাটা, মাড়াই, বস্তা প্যাকেটজাতকরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।















