মাহমুদ হাসান রনি,দামুড়হুদাঃ (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের সদাবরী গ্রামের সওদাগরের ছেলে আজিজুল হক বাড়ি থেকে রাগ করে দীর্ঘ ১৮ বছর শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার সেনরচর ইউনিয়নের বঙ্গবাজার গ্রামে চলে যান ও ওখানেই কাজ করে থাকতেন। দীর্ঘ ১৮ বছরেও বাড়ির সাথে কোন প্রকার খোজ খবর রাখেনি।করেনি কোন যোগাযোগ।
পরিবার সুত্রে জানা যায়,২০০৫ সালে আজিজুল হক(৬২) বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও পাননি। এক সময় তার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার ১৮ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে বাবাকে পেয়ে স্ত্রীসহ তিন পুত্র সন্তান কান্নায় ভেঙে পড়েন কিন্ত এ কান্না ছিল বড় আনন্দর
সদাবরী গ্রামের জিহাদ হোসেন , জাহিদুল ইসলাম, ও সাগরসহ সাত হতে আট জনের একটি দল কামলা খাটতে যায় ফরিদপুর ও শরীয়তপুরে হঠাৎ জনের হাটে আজিজুল হকের সাথে দেখা, জাহিদ চিনতে পেরে রবিবার সন্ধায় তাকে বাড়ি নিয়ে আসে। নিজ গ্রাম সদাবরীতে পৌছালে এক আনন্দোর বন্যা বয়তে থাকে। অন্য দিকে গ্রামের মানষজন এক নজর তাকে দেখার জন্য তার বাড়ি ভিড় জমাতে থাকে।
আজিজুল হকের ছোট ছেলে আহসান বলেন, আমার বয়স যখন ৪ তখন বাবাকে আর দেখেনি। আমার খুব ইচ্ছা ছিলো বাবাকে দেখতে চাই জীবিত বা মৃত্যু, বাবাকে পেয়ে আমি খুব খুশি আর হারাতে দিবো না।পৃথিবীতে যার বাবা নেই তার কেহ নেই। মা ও শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।স্ত্রী রাসেদা খাতুন বলেন,২০০৫ সালের একদিন কাউকে কিছু না বলেই প্যান্ট-শার্ট পড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। স্ত্রী রাশেদা বলেন, আমার স্বামী আজিজুল হক চুয়াডাঙ্গায় যাবার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে সব সময় দোয়া করতাম। সে যেন একদিন জীবিত হয়ে আমার কাছে ফিরে আসে।
বড়ছেলে আব্দুল কাদের বলেন, দীর্ঘ বছর পর বাবাকে এভাবে ফিরে পাবো তা কখনোই ভাবিনি। খেয়ে না খেয়ে তিন ভাই মা কত রাত কেঁদেছি না খেয়ে থেকেছি এত কষ্ট জীবনে করেছি আজ বাবাকে পেয়ে সব দু:খ কষ্ট ভুলে গিয়েছি । গ্রামের জাহিদের সহযোগিতায় বাবাকে ফিরে পেয়েছি। বাবা আজিজুল বলেন ঠিকমত বাড়ির খাবার যোগারের টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে অভিমানে একাজ করি।















