এমভি জে হ্যায়” জাহাজ থেকে মোংলা বন্দরে খালাস হচ্ছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা

0
43

মোংলা প্রতিনিধি : রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে মোংলা বন্দরে নঙ্গর করেছে ‘এমভি জে হ্যায়’ নামের বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ। চীনা পতাকাবাহী জাহাজটি শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরের হাড়বাড়িয়া এলাকার ১১ নম্বর এ্যাংকারেজ বয়ায় ভিড়ে পন্য খালাসের জন্য। এদিন দুপুরের পালা থেকে এ সকল কয়লা খালাস কাজ শুরু করে পন্য খালাসকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসেম এন্ড সন্স কোম্পানী।  স্থানীয় শিপিং এজেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশী বানিজ্যিক এ জাহাজ ‘জে হ্যায়’র স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ‘টগি শিপিং এন্ড লজিস্টিক লিমিটেড’র খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক জানান, আমদানীকৃত রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ২৬ হাজার ৬শ ২০মেট্টিক টন জ্বালানী কয়লা নিয়ে চায়না পতাকাবাহী এম,ভি জে হ্যায় জাহাজটি গত ২১ মে মোংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি ইন্দোনেশিয়া থেকে নৌপথে ১৯ দিন সময় লেগেছে মোংরা বন্দরে পৌছাতে। শুক্রবার সন্ধ্যা রাতে মোংলা বন্দরের সাগর মোহনা হিরোন পয়েন্টের বয়ায় এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে নিজেস্ব পাইলটের মাধ্যমে জাহাজটি শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরের পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়া নামক স্থানের এ্যাংকারেজের ১১ নম্বর বয়ায় নঙ্গর করে। বন্দরের হারবার বিভাগের এমন খবর পাওয়ার পর সকালে পন্য খালাসকারী প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক ও কয়লা খালাস কাজের সরঞ্জমাদি নিয়ে সেখানে পৌছায়।শনিবার দুপুরের পালায় জাহাজটি থেকে কয়লা খালাসের কাজ শুরু করে শ্রমিক ও কয়লা খালাসকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসেম এন্ড সন্স কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। বিকাল নাগাদ খালাসকৃত কয়লা লাইটার ও কার্গো জাহাজে করে নেয়া হবে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব জেটিতে। সেই জেটির নিজস্ব গ্রাস্পের মাধ্যমে লাইটার ও কাগ্যো জাহাজ (নৌযান) থেকে কয়লা অপসারণ করে স্বয়ংক্রিয় বেল্টের মাধ্যমে তা সংরণ করা হবে তার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কয়লার শেডে বা গোডাউনে।কয়লা আমদানীকারকরা আরো বলেন, রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এর আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে গত ১৬ মে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বসুন্ধরা ইমপ্রেসে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও ২৯ মে এমভি বসুন্ধরা ম্যাজেস্টি জাহাজে ৩০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস করে তা রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌছে দেয়া হয়েছে।এদিকে রাপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দুইটি ইউনিট চালু হওয়ার পর যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে ১৫ এপ্রিল এটি বন্ধ থাকে ৪দিন। কেন্দ্রটি চালু হলে কয়লা সংকটের কারণে পুনরায় ২৪ এপ্রিল বন্ধ হয়। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পরে দ্রæত কয়লা এনে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হয়।অপরদিকে, কয়লার সংকটের কারণে প্রথম ৫জুন পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরে দ্বিতীয়ত ৯ জুন বাঁশখালী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুইটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দুঃসংবাদের মধ্যেই রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সুখবর নিয়েই ১০ জুন শনিবার ভোরে মোংলা বন্দরে ভিড়েছে কয়লার বোঝাই জাহাজ “এম,ভি জে হ্যায়”। মুলত পটুয়াখালীর পায়রা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের মত দুঃসংবাদের মধ্যেও আশার আলোতে রয়েছে দেশের বহুল আলোচিত মোংলা বন্দর ও বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের সন্নিকটে অবস্থিত রামপাল কয়লা ভিত্তিক এ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। চলতি মাসের শেষেরদিকে আরো দুইটি কয়লা বোঝাই জাহাজ আসার কথা রয়েছে বলে জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here