বেনাপোলে বিরানি হাউজে খাবারের মধ্যে মাথার চুল ও পোকা মাকড়।

0
274
রবিউল ইসলাম শার্শা সীমান্ত প্রতিনিধি:দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল ছোট আঁচড়ার মোড় সংলগ্ন আল্লার দান বিরানি হাউজে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন খাবারের মধ্যে মাথার চুল ও পোকা মাকড় ক্ষুধামন্দাসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী। শনিবার (২৪ জুন) সন্ধায় সেখানে খাবার খেতে গিয়ে দেখা মিলেছে এসকল অস্বাস্থ্যকর খাবার।
একদিকে যেমন রান্নাঘরে ধুলাবালি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অন্যদিকে খাবারের মধ্যে পোকা মাথার চুল সহ মানহীন ও একই খাবার প্রতিদিন বিক্রয়ে খাবারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা।
তারা বলছেন, অপুষ্টিকর, পচা ও দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে, যা বাধ্য হয়েই খাচ্ছেন তারা। নিম্নমানের খাবার খেয়ে ক্ষুধামন্দা ও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা। প্রশাসন বলছে, সব সমস্যা সমাধানের জন্য তারা চেষ্টা করছে।শার্শা উপজেলা চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে সাধারণ মানুষের  আমাশয়, ডায়রিয়া, হ্যাপাটাইটিস, জন্ডিস, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া পেটের সমস্যা নিয়ে অনেকে চিকিৎসা নিতে আসছেন।বেনাপোলের বিভিন্ন হোটেল ঘুরে দেখা গেছে, বেনাপোল দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর হওয়ায় খাবারের প্রয়োজনে বিরানি হাউজ ও হোটেল রেস্তোরাঁ গুলোর ওপর ভরসা করতে হয়। অধিক অংশ মানুষের সেই বিরানি হাউজ ও হোটেল রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। যেখানে অস্বাস্থ্যকর ও ধুলাবালির মধ্যে খাবার রান্না ও পরিবেশন করতে দেখা যায়।বেনাপোল বসাবাস কারি মামুনুর রহমান বলেন, কর্ম ক্ষেত্রে থাকার জন্য প্রায় দিন আল্লার দান বিরানি হাউজে খাবার খেয়ে থাকি মাঝে মধ্যে পেটে সমস্যা হয়, অসুস্থ হই। আজ ও এখানে খেতে এসেছি এসে খাবারে মাছি ও পোকামাকড় পেয়েছি, তখন খাবার রেখে বিল পরিশোধ করে চলে আসতে হয়েছে। এবং খাবারের পোকা কথা বলতেই তিনি বলেন খাবারে পোকা থাকতেই পারে বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া বেনাপোল পোর্টের লেবার কবিরুল বলেন, বেনাপোলের প্রশাসন সাধারণ মানুষের ভালো স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে মোটেই চিন্তা করছে না। যদি তারা চিন্তা করত তাহলে হলে এই ধরনের বাজে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হতো না আমাদের।এছাড়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়ার অভিযোগ করে স্থানীয়রা বলেন, কর্মচারীরা দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়। এটা করে তারা অতিরিক্ত আয়ের চেষ্টা করেন। সেই সাথে বিরানি হাউজ গুলোর রান্নাঘর থাকে ময়লায় পরিপূর্ণ। খাবারে পচা আলু, চালে পাথর, রান্না করার অপরিচ্ছন্ন হাঁড়ি-পাতিল ছাড়াও প্রতিদিন একই ভাবে ব্যবহার করছে।
২৪ জুন আল্লার দান বিরানি হাউজের শতাধিকারী আনিস বেপারী ও তার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ক্রেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, খাবারের অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়গুলো সমাধান হবে বলে আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here