স্টাফ রিপোর্টার কালীগঞ্জ, (ঝিনাইদহ) : পর্যায়ক্রমে তিন বার কালীগঞ্জ নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হলে ডাক্তার অরুণ কুমার বিশ্বাস রিপোর্ট দেখে বলেন, গর্ভে সন্তান আছে একটি এবং সর্বশেষ বার রিপোর্ট দেখে বলেন গর্ভে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে অথচ প্রসূতি মা জমজ কন্যা সন্তান প্রসব করলেন।
ভুক্তভোগী মোসাম্মৎ কুলসুম খাতুন জানান, কালীগঞ্জ জামাল ইউনিয়ন এর উল্ল্যা গ্রামে তার বাড়ি। তিনি তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মোসাম্মৎ রেহেনা খাতুনকে নিয়ে নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার উদ্দেশ্যে যান। সেখানে ডাক্তার অরুণ কুমার বিশ্বাস তার মেয়ের গর্ভকালীন সময় পর্যায়ক্রমে ১৫ সপ্তাহ ১৮ সপ্তাহ ও ৩৩ সপ্তাহ মোট তিন দফায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেন। এবং প্রতিবারই রিপোর্টে একটিমাত্র সন্তানের কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে গত ১৫/৬/২০২৩তারিখে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তার প্রতাপ কুমার বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে রোগীর সিজার করা হয়। এবং দুইটি জমজ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
তিনি জানান আমার মেয়ের পূর্বে একটি সন্তান আছে পরবর্তীতে দুইটা জমজ সন্তান হওয়ায় আমি অনেক খুশি। কিন্তু আমি যতদূর জানি ডাক্তার অরুণ কুমার বিশ্বাস অনেক বড় এবং নামকরা ডাক্তার। তার দ্বারা এমন একটা ভুল মেনে নেওয়া যায় না। ভুল একবার হতে পারে কিন্তু পরপর তিনবার একই ভুল কিভাবে হয়? ভুল রিপোর্টের কারণে আমার মেয়ে যদি কোন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হত তাহলে এর দায়ভার কে নিত ?
সে কি আসলেই ডাক্তার না অন্য কিছু?
এ ব্যাপারে কথা হয় ডাক্তার অরুণ কুমার বিশ্বাসের সাথে। তিনি তার ভুল স্বীকার করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি নিউজটি প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। কথা হয় ডাক্তার প্রতাপ কুমার বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের থেকে এরকম ভুল মেনে নেওয়া যায় না, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কালিগঞ্জের নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর এরকম ভুলেভরা রিপোর্টের অভিযোগ করলেল শ্রীরাসপুরের স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, তিনি সাংবাদিকদের জানান গতবছর আমার স্ত্রী রোকেয়া পারভিনকে নিয়ে যাই টেস্ট করাতে কিন্তু তারা যে রিপোর্ট দেন তা ছিল সম্পূর্ণ ভুল,এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবার জন্যে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর এরকম ভুলে ভরা রিপোর্টের বিষয়ে কথা হয় ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা.শুভ্ররানী দেবনাথ এর সাথে, তিনি অভিযোগের বিষয়টি শুনে বলেন, যেরকম ভাঙ্গা মেশিন, সেরকমই ভাঙ্গা ডাক্তার, আপনারা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলমগীর এর সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন ও অভিযোগ দিন ওই ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত করে ওদের মানহীন মেশিন বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলমগীর এর সাথে তিনি সাংবাদিকদের জানান,আপনারা হয়ত আমাদের সিভিল সার্জনকে বিষয়টি অবহিত করেছেন তিনি আমাকে ফোন করে বিস্তারিত বলেছেন, আপনার ভুক্তভোগী পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলুন আমরা ব্যবস্থা নিবো। প্রমাণ সহকারে সংবাদ প্রচারের ভিত্তিতে কি অভিযান পরিচালিত হবে না.? এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে যদি সিভিল সার্জন ম্যাডাম আমাদের নির্দেশ দেন অবশ্যই সম্ভব।
ভুক্তভোগী জনগণের দাবি আমরা চিকিৎসা সেবা নিতে যেয়ে এইসব ভুয়া মানহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হয়রানির শিকার হচ্ছি ও অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছি, যার কারণে ঝিনাইদহের চিকিৎসা সেবা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, অনতিবিলম্বে এই সকল মানহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন সর্বসাধারণ জনগণ।















