ঈদের আগে বেনাপোল দিয়ে ভারত যাচ্ছে দ্বিগুণ যাত্রী

0
187

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি পাঁচ দিন। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছেন অনেকে। স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, চিকিৎসা, ব্যবসা, কেনাকাটার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ছেন মানুষ। বিশেষ করে ভারতে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ভিসা সহজলভ্যতা ও খরচ কম পড়ায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।সোমবার (২৬ জুন) চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, বেনাপোল চেকপোস্টের আন্তর্জাতিক টার্মিনালের সামনে ছিলো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সারতে পুলিশ, আনসার ও বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।বেনাপোল চেকপোস্টে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাসপোর্টের কাজ শেষ করে ভারতীয় চেকপোস্টে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘলাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ওপারের ইমিগ্রেশনের কাজ ধীরগতির কারণে যাত্রীদের এ দীর্ঘলাইন এমন অভিযোগ করেন যাত্রীরা।ভারতীয় ইমিগ্রেশন থেকে ভারতীয় কাস্টমস, মেইন গেট, নোম্যান্সল্যান্ডে কয়েকটি গোলাকার লাইন পেরিয়ে আশেপাশের মাঠ ছাপিয়ে গেছে লাইন। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, মা ও শিশুদের কষ্টের সীমা নেই। অনেক রোগীকে রাস্তার ওপরই বসে থাকতে দেখা গেছে। প্রচণ্ড রোদে ও খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগে পড়েন কয়েক হাজার মানুষ।বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। অল্প সময়ে কম খরচে বেনাপোল পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাওয়া যায় কলকাতা হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে। এ কারণে মানুষ এ পথে বেশি যাতায়াত করে।গত ১৬ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৭৩৯ জন যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ২২ হাজার ৬৭৩ জন এবং ভারত থেকে এসেছেন ৩০ হাজার ৬৬ জন। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ধারণা ঈদের দিন পর্যন্ত যাতায়াত বেড়ে দাঁড়াবে এক লাখের কাছাকাছি।ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের প্রচুর ভিড় থাকায় পাসপোর্টের কার্যাদি সম্পন্ন করতে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবীব বলেন, ঈদের ছুটিতে যাত্রী সংখ্যা ২২ জুন সকাল থেকে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। শুক্র, শনি, রবি ও সোমবার যাত্রীর চাপ অন্য দিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। যাত্রীদের সেবায় ইমিগ্রেশনে আমাদের লোকজন একটানা কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ত্রুটি বিচ্যুতি হবে না আশা রাখি। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় এজন্য ইমিগ্রেশনে নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবা বাড়াতে ইমিগ্রেশন চত্বরে পুলিশের জনবল বাড়ানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here