যশোরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজনসহ ৭ জন নিহত

0
368

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে বাস-ইজিকাইক সংঘর্ষে একই পরিবারের পাঁচজনসহ মারা গেছেন ৭জন। যশোর-মাগুরা সড়কের লেবুতলায় শুক্রবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ইজিবাইকের আট যাত্রীর মধ্যে সাতজন নিহত হয়েছে। যাদের মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশুসহ পাঁচজন রয়েছে। খাজুরা প্রতিনিধি পারভেজের তথ্য মতে নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় মিলেছে তারা হলেন, ইজিবাইক চালক যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের ওবায়দুর রহমানের ছেলে মুসা (১৭), একই উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাবুল মুন্সীর শাশুড়ী, স্ত্রী মহিমা বেগম (৪৫), হেলাল মুন্সীর জমজ সন্তান হুসাইন ও হোসেন (৪), সেকেন্দারপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক শাহিদুর রহমানের স্ত্রী ছনিয়া খাতুন (২২) এবং ওই চিকিৎসকের মেয়ে জেবা (৬)। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারে পাঁচজন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এনেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার যশোর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লোকাল বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৩৮৭৬) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তেঁতুলতলা বাজারে পৌঁছায়। এর আগে বাজারের প্রথম স্প্রিডব্রেকার অতিক্রম করার সময় ইজিবাইকের পেছনে বাসটি ধাক্কা দিলে চালকসহ ইজিবাইকের ৭ জন যাত্রী নিহত হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেন নামের স্থানীয় এক মুদিদোকানি বলেন, যশোর থেকে একটি ইজিবাইক আটজন যাত্রী নিয়ে যশোর মাগুরা সড়ক ধরে লেবুতলা বাজারের দিকে যাচ্ছিল। সড়কের তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে ইজিবাইকটি ডানে একটি বাইপাস সড়কে নামতে যায়। এসময় ইজিবাইকের পেছনে থাকা একটি বাস চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। বারোবাজার হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম ঘটনাস্থল থেকে জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ইজিবাইকটি তাদের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর এক ঘন্টার চেষ্টায় সড়ক থেকে যানজট নিরসন করে পুলিশ। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসিফ মোহাম্মদ আলী হাসান বলেন, মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এসময় তিনি নিহতদের স্বজনদের শান্তনা দেওয়াসহ সবরকমের সাহায্য করা আশ্বাস দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here