আনিছুর রহমান:- গতকাল রাতে মণিরামপুরের দোদাড়িয়া মোড় সংলগ্ন রাস্তার পাশে ঝিকরগাছার আক্তারুল (৩৫) নামের এক যুবককে হত্যা করে ফেলে গেছে। সংবাদ পেয়ে ভোর রাত থেকে লাশটি দেখার জন্য হাজার হাজার নারী পুরুষের ভীড় জমেছে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। তবে হত্যা না সড়ক র্দূঘটনায় মৃত্যু এ নিয়ে চলছে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।
নিহতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার খোশালনগর বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের চাঁদআলী গোলদারের ছেলে আক্তারুল ইসলাম বিগত ৫ বছর পূর্বে মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা দক্ষিনপাড়া গ্রামের রুহুল আমিনের কন্যা নাসরিনকে বিয়ে করে। তাদের ঘরে আড়াই বছরের একটা পুত্র সন্তানও রয়েছে। সম্প্রতি তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সূষ্টি হওয়ায় গত মাসে শ্বাশুড়ি সুফিয়া খাতুন বাদী হয়ে জামাই আক্তারুলসহ কয়েকজনের নামে আদালতে মামলা করে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই পুলিশের উপর ন্যাস্ত করেন। ফলে ১২ জুলাই আক্তারুল ও তার বড় ভাই নজরুল এবং দুলভাই আব্দুল আজিজ যশোর পিবিআই অফিসে যাই। কাজ শেষে রাত নয়টার দিকে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আক্তারুল মটরসাইকেলে একাই আগে চলে আসে। পরে তার বড় ভাই নজরুল ও দুলাভাই আজিজ দুজনে মটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরে আসে।
এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই নজরুল বলেন, আক্তারুল বাড়িতে না আশায় আমিসহ অনেকেই তার ব্যবহিত ফোনে যোগাযোগের জন্য বার বার কল করতে থাকি। ফোন কল বাজতে থাকলেও রিসিভ না হওয়ায় আমরা বিভিন্ন জায়গায় খুজাখুজি করতে থাকি। কোথাও সন্ধান না পেয়ে প্রশাসনকে জানাই। আমি মনে করছি শ্বশুররাই এ ঘঠনাটি ঘটিয়েছে।
নিহতের চাচাতো ভাই ফারুখ হোসেন বলেন, প্রথমে আমরা ঝাঁপা পুলিশ ফাঁড়ি ও রাজগঞ্জ পুলিশ তদ্ন্ত কেন্দ্রকে বিষয়টি জানাই। পরে থানায় যেয়ে আক্তারুলের ব্যবহিত ফোন নম্বরটি দেওয়া হয়। কিছু ক্ষনের মধ্যে থানা পুলিশ জানিয়ে দেয় আক্তারুলের ব্যবহিত ফোনটি দিঘীরপাড় গ্রামের মোবাইল টাওয়ারের দক্ষিনে সাইটের আশপাশে খোলা অবস্থায় রয়েছে। সেই মোতাবেক আমরা ৫/৭ জন মিলে ঐ এলাকার রাস্তার পাশে ও মাঠে তন্নতন্ন খুজতে থাকি। এক পর্যায় রাত তিনটার দিকে দিঘীরপাড় গ্রামের দক্ষিনে পাঁকা রাস্তার পাশে হোসেন আলীর জমিতে আক্তারুলের লাশটি দেখতে পায় এবং থানা পুলিশকে জানায়।
১৩ জুলাই খুব ভোরে সার্কেল (মণিরামপুর কেশবপুর) অফিসার আশেক সুজা মামুন, থানা ওসি মনিরুজ্জামানসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে আসেন। এবং লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন। এ সময় লাশের পাশ থেকে নিহতের ব্যবহিত মটরসাইকেল, মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন।
এদিকে নিহতের পরিবারের দাবী করছে, আক্তারুলের শ্বশুর বাড়ির মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা কান্ডটি সংঘঠিত হয়েছে। তারা ধারণা করছে যশোর থেকে ফেরার সময় উক্ত স্থানে পৌছালে তার গাড়ী গতিরোধ করে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। তবে ঘটনাস্থলে সাধারণ লোকজনের মাঝে গুঞ্জন শোনা গেছে বিষয়টি এস্কিডেন্ট হতে পারে। আর তাতেই তার মৃত্যু হতে পারে। নিহতের শ্বশুর রুহুল আমিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিনিধিকে বলেন, জামাই আক্তারুলের মৃত্যুর সংবাদ বৃহস্পতিবার সকালে পাওয়া মাত্রই আমরা সবাই ঘটনা স্থলে যাই। তার শ্বাশুড়ী ও আমার মেয়ে জামায়ের বাড়িতে গেছে। এ ঘটনার সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ত নেই।
বিষয়টি নিয়ে থানা অফিসার্স ইনচাজ মনিরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিনিধিকে বলেন, হত্যা না এস্কিডেন্ট সেটা এখন বলা যাচ্ছে না। ময়না তদন্ত রিপোটের পর সব কিছু জানা যাবে।















