পুলিশ পরিচয় চাঁদাবাজির সময় রূপদিয়ার চাউলিয়া গেট থেকে আটক-২; ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার

0
175

রাসেল মাহমুদ : রূপদিয়ার চাউলিয়া গেট নামক স্থান থেকে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাপের অংশ বিশেষসহ দুইজনকে আটক করে ফাঁড়ি পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। জানাযায়, যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গেট নামকস্থানে দুই যুবক ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাপ নিয়ে নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে স্থানীয় জনসাধারনের সামনে প্রদর্শন করে। তাদের কর্মকান্ড দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে কৌশলে আটকে রেখে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল হাচান’কে অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে ক্যাম্প ইনচার্জের নেতৃত্বে সঙ্গীয় এএসআই মোঃ আজাদুল ইসলাম, কনস্টেবল কামরুজ্জামান (১৯০০), রিয়াজুল ইসলাম (৬৫৪) ও আনারুল ইসলাম (১৫৮৬) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের’কে নিজেদের হেফাজতে নেন। ধৃতরা সদর উপজেলার রাজারহাট, মুড়লীর মিলপাড়া এলাকার পিয়ার আলীর ছেলে মোঃ ফিরোজ হোসেন (২৭) ও অপরজন রামনগরের পুকুর কুল মসজিদ এলাকার মোঃ সাকের আলীর ছেলে মোঃ ইউসুফ আলী (১৯)। এসময় তাদের দেহ তল্লাশী করে ২টি ব্যাটারী চালিত ওয়াকিটকি সদৃশ্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, ১টি হ্যান্ডক্যাপ সদৃশ্য বস্তু ও ১টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার ১৬ জুলাই এ ঘটনায় নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল হাচান যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এজার দায়ের করেন। নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের সাধারণ ডাইরী নং- ৩২৭, তারিখ-১৬/০৭/২০২৩ খ্রিঃ।
বাদি এজাহারে উল্লেখ করেছেন আমি সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্প এলাকায় মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা ডিউটি করাকালে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের রূপদিয়া বাজারের পশ্চিম সাইডে শুভেচ্ছা সিনেমা হলের সামনে অবস্থানকালে ১৬ জুলাই রোববার আনুমানিক বেলা ৯টা ৫০ মিনিটের সময় গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানিতে পারি যে, চাউলিয়া গ্রামস্থ চাউলিয়া গেট এলাকায় পাকা রাস্তার উপর দুইজন ব্যক্তি ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডক্যাম্পের অংশ বিশেষ স্থানীয় জনসাধারনের সামনে প্রদর্শন করিতেছে। জনসাধারন তাহাদেরকে দেখে সন্দেহ হইলে কৌশলে আটকে রেকে আমাকে সংবাদ দেয়। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহিত বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে আলোচনা করতঃ দ্রুত সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ রওনা হইয়া ১৬ জুরাই বেলা ১০.১০ ঘটিকার সময় উল্লেখিত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া স্থানীয় জনগনের নিকট ঘটনার বিষয়ে জানিয়া ও শুনিয়া উপস্থিত সাক্ষী ১) মোঃ জাহিদুর রহমান পিন্টু (২৮), পিতা-মোঃ আজিজুর রহমান, মাতা মোছাঃ আছিয়া বেগম, সাং-গোপালপুর (০১৭৩২-১৩৮৬১৫), ২) মোঃ এরশাদ হোসেন @ এশা (৩৪), পিতা-মৃত রমজান আলী দফাদার, মাতা-নুর জাহান বেগম, সাং-চাউলিয়া (০১৭২৮-৯৫২৯২৯), উভয় থানা- কোতয়ালী, জেলা-যশোর, ৩) এএসআই(নিঃ)/মোঃ আজাদুল ইসলাম, বিপি-৮৫০৫১০৮৬৭৪, (০১৭২৪-৫৬৮১৫০) নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্প, কোতয়ালী মডেল থানা, যশোরগন সহ আরো অনেকের সম্মুখে ধৃত উল্লেখিত আসামীদ্বয়ের দেহ তল্লাশীকালে ১নং আসামীর পরিহিত প্যান্টের ডান পকেটের সামনে হইতে ০১ টি ব্যাটারী চালিত ওয়াকিটকি সদৃশ্য খেলনা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, যাহার গায়ে ইংরেজিতে MOTOROLA লেখা আছে এবং তাহার বাম পকেটের ভিতর হইতে ১টি হ্যান্ডক্যাপ সদৃশ্য স্টিলের অংশ বিশেষ এবং ২নং আসামীর পরিহিত প্যান্টের বাম পকেটের সামনে হইতে আরো ১টি ব্যাটারী চালিত ওয়াকিটকি সাদৃশ্য খেলনা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস, যাহার গায়ে ইংরেজিতে MOTOROLA লেখা আছে এবং ০১টি OPPO মোবাইল সেট, যাহার মূল্য অনুমান ৮০০০/- (আট হাজার), যাহা ধৃত আসামীদ্বয়ের নিজ হাতে বাহির করিয়া দেওয়া মতে উদ্ধার পূর্বক ১৬ জুলাই ১০.৩০ ঘটিকার সময় জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করি। জব্দ তালিকায় সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহন করিয়া আমি নিজেও স্বাক্ষর করি। আমি ধৃত আসামীদ্বয় ও আলামত নিজ হেফাজতে গ্রহন করি। আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে তাহারা উপরোল্লিখিত নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ধৃত আসামীরা ভূয়া সরকারি অফিসার পরিচয় দিয়া পরস্পর যোগসাজসে উক্ত স্থানে স্থানীয় জনসাধারনের সহিত চাঁদাবাজী করিতে আসিয়াছিল মর্মে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে স্বীকার করে। ধৃত আসামীদ্বয় ভূয়া সরকারি অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়া এবং উল্লেখিত মালামাল হেফাজতে রাখিয়া পেনাল কোড আইনের ১৭০ ধারার অপরাধ করিয়াছে। আমি অভিযান পরিচালনা এবং সরকারী অন্যান্য জরুরী কাজ শেষে থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করি। ধৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করতে আবেদন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here