নৌকা তৈরীর ব্যবসায় কেশবপুরের মনিরুলের জীবন বদল

0
173

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের কেশবপুর উপজেলার বৃষ্টির মৌসুম এলেই নদ-নদী খাল বিলে শুরু হয় মাছ ধরার বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই কাজে ব্যবহৃত হয় গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্য কাঠের নৌকা। মাছ ধরার পাশাপাশি মৎস্য ঘেরে মাছের খাদ্য সরবরাহ করতেও ব্যবহার হয় কাঠের নৌকা। তাই বর্ষা মৌসুম এলেই কেশবপুরে নৌকা ব্যবসায়ীরা শুরু করেন নৌকা তৈরীর কাজ।
এই সময় কেশবপুরের একাধিক কারখানায় শুরু হয় নৌকা তৈরীর মহোৎসব। এই নৌকা তৈরী করে কারিগরদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা হলেও ব্যবসায়ীরা হয়েছেন লাখপতি। উপজেলার মঙ্গলকোট বাজারে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নৌকা তৈরী করেন মনিরুল। নৌকা ব্যবসা করে কালিয়ারই গ্রামের মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন সুপরিচিতি।
মনিরুল নৌকা ব্যবসায় একজন স্বাবলম্বী যুবক। তিনি নৌকা তৈরীর ব্যবসা করে মুনাফা অর্জনের সাথে সাথে বাচিয়ে রেখেছেন নৌকা নামের প্রাচীন ঐতিহ্যকে। মনিরুল ইসলামের এই ব্যাতীক্রমধর্মী ব্যবসায় সম্পৃক্ত একাধিক পরিবারে হয়েছে তাদের রুটি রুজির ব্যবস্থা। বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত দীর্ঘ ৫মাস যখন অন্যরা কাটায় অলস সময়, তখন নৌকা তৈরীর কারিগরদের জীবন বদলে যায় নৌকা তৈরী করে। আর এই নৌকা তৈরীতে ব্যবহৃত হয় লম্বু ও খই কাঠ। কারন লম্বু ও খই কাঠ পানিতে সহজে পচেনা তাই এই জাতীয় কাঠ দিয়ে তৈরী হয় নৌকা।
সরেজমিনে মনিরুল ইসলামের নৌকা তৈরীর কারখানায় জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ৫থেকে ১০জন কারিগর সকাল থেকে বিকাল অবধি চুক্তি ভিত্তিক মজুরীতে কাজ করে থাকেন। একটি মাঝারী (২৭ফুট দৈর্ঘ ও সাড়ে ৫ফুট প্রস্থ) সাইজের নৌকা তৈরী করতে ৫/৬জন কারিগরের ৪/৫দিন সময় লাগে। এবং নৌকা প্রতি ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা মুজুরী গুনতে হয় তাকে। একটি মাঝারী (২৭ফুট দৈর্ঘ ও সাড়ে ৫ফুট প্রস্থ) সাইজের নৌকা ২২থেকে ২৫হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। নৌকা ভেদে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। কেশবপুর ছাড়াও এসব নৌকি বিক্রি হয় যশোর, ঝিনাইদহ, মনিরামপুর, তালা, ডুমুরিয়া, বাগেরহাট সহ বিভিন্ন এলাকায়। প্রতি বছর তিনি প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পিচ নৌকা বিক্রি করে থাকেন। এসব নৌকা খাল ও নদীর পাশাপাশি মৎস্য ঘেরে ব্যবহৃত হয়।
কেশবপুরে প্রচুর পরিমানে মৎস্য ঘের ও ঘের ব্যবসায়ী রয়েছে। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক হারে বিক্রি হয় কাঠের তৈরী এই নৌকা। এক সময় এই অঞ্চলে বন্যা কবলিত হয়ে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ ঘের ব্যবসার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। ফলে প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে মৎস্য ঘেরের সংখ্যা। আর মৎস্য ঘেরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে নৌকার চাহিদা। আর এই চাহিদাকে পুঁজি করে মনিরুল মুরগির খামারের ব্যবসা ছেড়ে শুরু করেন নৌকা তৈরীর ব্যবসা। আর এই ব্যবসায় বদলে যায় তার জীবনের গল্প।
এবিষয়ে নৌকা ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, নৌকা তৈরীর ব্যবসা একটি ব্যয়বহুল ব্যবসা। তাছাড়া এটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষার পাশা-পাশি এই ব্যবসায়ে বদলে গেছে আমার জীবন। আমার দেখা দেখি এখন আশে পাশে আরো দু-একজন এই ব্যবসা শুরু করেছে। তবে এই ব্যবসা অত্যান্ত ব্যয়বহুল। এই ব্যবসায় টিকে থাকতে ও প্রাচীন ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারি বেসরকারি পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখান থেকে তারা তাদের ব্যবসা দেখিয়ে স্বল্পসুদে ঋণ নিয়ে এই নৌকা ব্যবসা করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here