চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় শিক্ষক কর্তৃক একাধিক ছাত্রী লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল বিদ্যালয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে দিনের বেশির ভাগ সময় সড়কে এসে দফায় দফায় মিছিল করে। খবর পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের শান্ত করে ক্লাসে ফিরে যেতে বলেন। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন অভিভাবক মহলও। সকলেই অভিযুক্ত শিক্ষক নামের কলঙ্ক তসলিমুর রহমানকে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত বলে জানা গেছে।
চৌগাছা ছারা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে রোববার সকালে সমাবেশ চলাকালিন সময়ে অন্তত সাত ছাত্রীকে বেধড় মারপিট, গালমন্দ ও স্কুল ড্রেস ছিড়ে ফেলেন বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক বহুল আলোচিত তসলিমুর রহমান ওরফে তসলিম। তার এই জঘন্যতম অপরাধে এক শিক্ষার্থী অভিভাবককে নিয়ে যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে। ঘটনাটি আমলে নিয়ে নির্বাহী অফিসার তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
এ ঘটনার এক দিন পর সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের সকল শ্রেনীর ছাত্রী একত্রিত হয়ে দোষি শিক্ষক তসলিমুর রহমানের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছেড়ে সড়কে চলে আসে। তারা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় বিদ্যালয়ে যেয়ে ক্লাস বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এসময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা ছাত্রীদের সাথে কথা বলে ক্লাসে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু আলোচিত শিক্ষক তসলিমুর রহমান প্রতিষ্ঠানে থাকা অবস্থায় তারা ক্লাসে ফিরবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। খবর পেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাসে নিতে সক্ষম হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় ত্যাগের নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে অসংখ্য অভিভাবক প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি করেন। অভিভাবক হাসিবুল ইসলাম, মুক্ত, বজলুর রহমান, ইউনুচ আলীসহ একাধিক অভিভাবক বলেন, কোন শিক্ষক তার ছাত্রীকে গাল মন্দ ও স্কুল ড্রেস ছিড়ে দিতে পারেনা। সে শিক্ষক নামের কলঙ্ক, তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, সকালে বিদ্যালয়ে এসেই মেয়েরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা বাজারে এসে মিছিল করে। আমরা সকলকে ক্লাসে যেতে বলি। খবর পেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয় এসে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়ে যান। কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক অব্যহতি প্রদান করেছেন।
চৌগাছা সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, রোববারের ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক। কোন শিক্ষকই ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে এহেন আচরণ করতে পারেনা, তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক, তার আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া জরুরী।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম মোঃ রফিকুজ্জামান বলেন, রোববারের ঘটনায় মেয়েরা ক্ষুব্দ, তারা সোমবার মিছিল বের করে এবং ক্লাস বর্জন করে। খবর পেয়ে নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে বিদ্যালয়ে হাজির হয়ে মেয়েদের ক্লাসে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক অব্যহতি দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় জানেন, দ্রুতই শিক্ষক তসলিমুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।















