কেশবপুরে বিষধর সাপের উপদ্রব, ওঝা দিয়ে বিষ নামাতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে

0
267

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুরে শুক্রবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে নুসরাত জাহান ফাহিমা নামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফাহিমা কেশবপুর পৌর এলাকার ব্রহ্মকাটি গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। সম্প্রতি কেশবপুরে দুজন স্কুল শিক্ষার্থীসহ ৪ জনের সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সাপে কামড়ানো রোগির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম রয়েছে। তবে সাপে কাটা রোগিদের হাসপাতালে না এনে ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানোয় মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ব্রহ্মকাটি গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আসমা বেগম তাঁর মেয়ে ফাহিমাকে নিয়ে বসতঘরের মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। মেয়েটি ঘুমিয়ে গেলে তিনি প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যান। পরে ঘরে ফিরে দেখেন শিশু মেয়েটির মুখের ডানপাশে ক্ষতচিহ্ন এবং মুখ দিয়ে লালা বের হয়েছে। এছাড়া শিশুটিকে নিস্তেজ ও শরীর নীলবর্ণ দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসেন। ততক্ষণে শিশুটি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। এলাকার কাউন্সিলর আব্দুল হালিম বলেন, শিশু মেয়েটির মুখে ছোট ক্ষত চিহ্ন দেখে ধারণা করা হয়- রাতে ঘুমের মধ্যে সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ২৮ আগস্ট উপজেলার সরাপপুর গ্রামের রামপ্রসাদ মল্লিকের একমাত্র ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র দিপু মল্লিক (১৫), গত ১২ আগস্ট কোমরপোল গ্রামের মৃত শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে চপ বিক্রেতা বাবলু সরদার (৩৫) ও গত ২৪ জুলাই গৌরীঘোনা গ্রামের কার্তিক চক্রবর্তীর মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মোহনা চক্রবর্তী মিতু (১২) বিষধর সাপের কামড়ে মারা যায়। তাদের প্রত্যককে হাসপাতালে না এনে এলাকার ওঝা দিয়ে বিষ নামানোর জন্য ঝাড়ফুঁক করানো হয়। ওঝা বিষ নামাতে ব্যর্থ হলে হাসপাতালে আনার পথিমধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, হাসপাতালে সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম রয়েছে। তবে সাপে কাটা রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে না এনে ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করাতে গিয়ে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সাপে কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি রোগীদের হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here