এইচ এম জুয়েল রানা স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেবিদাসপুর এলাকায় কৃষিজমিতে একই স্থানে গড়ে উঠেছে দুটি টায়ার পুড়িয়ে কালো তেল তৈরির কারখানা।
এতে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। টায়ার পোড়ানো পরিবেশ ও মানুষের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে, দিনে টায়ার না পুড়িয়ে রাতের আঁধারে টায়ার পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে কালো তেল। আবার সেই টায়ার পুড়াতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ।এ কারখানার ঘনকালো ধোঁয়া আর উৎকট গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে গোটা এলাকার বাতাস। বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ, আর হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। কারখানায় প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ শ্রমিক কাজ করে। টায়ার পুড়িয়ে উৎপাদিত তেল সড়কে ব্যবহৃত বিটুমিনের পরিবর্তে নিম্নমানের সামগ্রী হিসেবেই ধরা হয়। যা ব্যবহারে সড়কের স্থায়িত্ব কম হয়। শুধু সড়ক সংস্কারে নয় এসব জ্বালানি তেল বিভিন্ন কারখানায় জ্বালানি তেল হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে টায়ার পুড়িয়ে পাওয়া পাউডার ও লোহার তার যাচ্ছে ছাপাখানায় ও স্টীল রি-রোলিং মিলে।
ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় কৃষক কামরুজ্জামান,মিনারুল ইসলাম সহ অনেকে জানান,এই দুটি কারখানা দীর্ঘদিন ধরে দেবিদাসপুর গ্রামে টায়ার পুড়িয়ে অবৈধভাবে কালো তেলের রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। দিনের বেলা কারখানায় সবকিছু থাকে নিরব, নিস্তব্ধ। তবে সন্ধ্যার পর রাত যত ঘনিয়ে আসে, সেখানে তত বেশি কর্মব্যস্ততা শুরু হয়।
টায়ার পোড়ানো এই কারাখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দূষিত হচ্ছে সেই সাথে সকল জীবের কাছ থেকে অক্সিজেন কেড়ে নিচ্ছে। ফলে গাছ পালা দিন দিন মারা যাচ্ছে। বিষাক্ত এসিড মিশ্রিত কালো তেলের ধোঁয়াগুলো বায়ুমন্ডলে মিশে এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঘনীভূত হচ্ছে। এতে বিশেষ করে শিশুদের বিভিন্ন রোগের সূত্রপাত ঘটছে।পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের কাছে এমন কারখানা বন্ধের দাবি স্থানীয়দের।
এলাকার অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কাইয়ুম আলী জানান, টায়ার পোড়ানোর কারণে এলাকার ফলগাছগুলোতে ফল ধরছে না। কারখানাটির বর্জ্য পাশের খালে যাওয়ায় খালের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে সেই সাথে দূষিত হচ্ছে ফসলি জমি। পরিবেশ দূষণ থেকে যেন আমরা রক্ষা পেতে পারি তার একটা সু ব্যাবস্থা আমরা চাই।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে কিনা টেকওয়েস্ট কারখানার মালিক জহির উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আবেদন করেছি এখনো অনুমতি পাইনাই। আকন্দ ট্রেডার্স এর ম্যানেজার বৈদ্যনাথ শর্মার কাছে পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নিয়ম মেনে কারখানা পরিচালনা করছি। আমাদের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিপ্তরের ছাড়পত্র আছে। টেকওয়েস্ট কারখানার বর্জ্য পাশের খালে ফেলে পানি ও ফসলি জমি দূষিত করছে।
যশোর পরিবেশ অধিপ্তরের উপপরিচালক নূর-আলমের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আকন্দ ট্রেডার্স এর অনুমতি আছে, টেকওয়েস্ট নামের কারখানাটি কে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাছাড়া অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে পরিবেশ বিনষ্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, অবৈধ এই লাইসেন্স বিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তন্ময় বিশ্বাস বলেন, কালো তেল পোড়ার র্দূগন্ধের কারণে শিশু ও বয়স্কদের ডায়ারিয়া, শ্বাসকষ্ট, কাশি, সর্দি সহ বিভিন্ন রোগ বালাই হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
![MVI_3779[00_00_00][20230924-115845-0]](https://dainikjessore.com/wp-content/uploads/2023/09/MVI_377900_00_0020230924-115845-0.bmp)














