অর্থাভাবে থমকে গেছে ভাসমান সেতু নির্মাণের কাজ নৌকায় ভরসা পারখাজুরাবাসির

0
165

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোারের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের খাজুরা বাঁওড় আর কপোতাক্ষ নদ ঘেরা পারখাজুরাবাসী। গ্রামটি যেন রুপ কথার কোন সভ্য সমাজ ছাড়াই নির্বাসনের এক অচিনপুরী। প্রজন্ম হতে প্রজন্ম নৌকা পারাপারেই জীবন পার করে দিয়েছেন। অদূরে দুই দিকে রাস্তা হওয়ায় গ্রামটির একাংশের মানুষের ভোগান্তি কমলেও বেশিভাগ মানুষের পারাপারের ভরসা একমাত্র নৌকা।
ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারপারে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বছর তিনেক আগে মৌসুমি আক্তার নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্র্থীর মৃত্যু হয়। ওই নৌকায় থাকা আরও অন্ততঃ ১০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ঝাঁপা বাওড়ের উপর নির্মিত ভাসমান সেতুর দেখাদেখি এ গ্রামের মানুষও তা নির্মানের উদ্যোগ নেন। কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অর্থাভাবে সেই কাজের অগ্রগতি থমকে গেছে।
গ্রামটিতে শিক্ষা বিস্তারে স্কুল, মাদ্রাসা সবই আছে। তারপরও কারো মনে যেন শান্তি নেই। কারন মন চাইলেও আর পাঁচটি গ্রামের মানুষের মতো সহসাই গ্রামের বাইরে যেতে পারেন না। রোগাগ্রস্থ মুমূর্ষরোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। গ্রামবাসীর আত্বীয়স্বজনও সচারচর আসেন না। কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষকদের ক্ষেতে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে ঝুকি নিয়ে নৌকায় যেতে হয়। অন্য যানবাহনে গেলে অনেক ঘুরতে হয় বিধায় পরিবহন ভাড়া বেশি পড়ে।
স্থানীয় আসলাম হোসেন, কাকলী আক্তার, রহিমা খাতুনসহ একাধিক কলেজ শিক্ষার্থী জানায়, তাদের কলেজ যেতে ঝুখি নিয়েই নৌকা পার হতে হয়। সদর উদ্দীন নামের কৃষক বলেন, জমির উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে ঝুকি নিয়েই নৌকা পার হতে হয়।
স্থানীয় ইউপি মেম্বর মুনসুর দলদার বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রাম এটি। দেশের মধ্যে এত বড় গ্রাম আছে কিনা তার জানা নেই।
পারাপারের মাঝি রব্বানি বলেন, গ্রামটির ২০ হাজার মানুষের পারাপারে একমাত্র ভরসা নৌকা। বছরের পর বছর নৌকায় পার হচ্ছেন গ্রামবাসি। প্রতিদিন প্রায় তিনশ’ হতে পাঁচশ লোক পার হয়। তিনি পারাপারের বিনিময়ে টাকা ও বছর শেষে গৃহস্থের ফসল নেন।
স্কুল শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রামটির উত্তর পাশে ঝাঁপা বাওড়, উত্তর-পশ্চিম কোণা হতে পদক্ষিণ-পূর্ব কোণা পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদ আর দক্ষিণ-পূর্ব কোণা হতে উত্তর-পূর্ব কোণা পর্যন্ত খাজুরা বাওড় বিস্তৃত। বর্তমানে দুই দিক দিয়ে রাস্তা হলেও গ্রামটির সিংভাগ মানুষের দুর্ভোগ লাঘোব হয়নি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here