ছাত্রনেতা রাকিব খুনের ঘটনা; শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা; ২ সাক্ষী সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা!

0
162

রাসেল মাহমুদ : চার লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে যশোর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ইমরান সহ পাঁচজনের নামে আদালতে মামলা। গতকাল সদর উপজেলার নিমতলী গ্রামের মফিজুর রহমান ধাবক আদালতে এই মামলাটি করেছেন। সিআইডিকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহম্মেদ। প্রসঙ্গত, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে নিমতলী গ্রামে ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম ইমন কচুয়া ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ধাপকের সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় খুন হন। এ হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে এই মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী। তিনি আরোও বলেন শুধু এই মামলা নয় এর আগেও এভাবে হয়রানি করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চালিয়েছে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা, ৫ দিন পূর্বেও মফিজ ধাপক তার নিজের বাসায় রাকিবের খুনীদের সহযোগিতায় ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাজি ফুটিয়ে বোমা বিস্ফোরণের মিথ্যা মামলা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসনের সঠিক তদন্তের কারণে। পরে তারা নতুন করে কোর্টে চাঁদাবাজির এই মিথ্যা মামলা করেছে। এছাড়াও হত্যা মামলার আসামি ও এই চক্রটি ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে আসছে এবং দৈনিক সমাজের কথা পত্রিকায় মিথ্যা রিপোর্ট করে প্রচারণা চালাচ্ছে
আসামিরা হলেন, নিমতলা গ্রামের হাদিউজ্জামানের ছেলে ও জেলা বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী, আবু বক্কার সরদারের ছেলে ও ০৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মৃত রুপোই মোল্যার ছেলে কচুয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আনিচুর রহমান মুক্তি, গোলাম হোসেনের ছেলে যুবলীগ নেতা রাজিব হোসেন ও দেয়াপাড়া গ্রামের কাজী সেলিম রেজার ছেলে ও কচুয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী মোহাম্মদ আলী ক্লে।
মামলা মতে, দীর্ঘদিন ধরে মফিজুর রহমান ধাবক লিজ নেয়া জমিতে শাকসবজি চাষ করে আসছিলেন। আসামিরা এলাকার সন্ত্রাসী হওয়ায় কিছুদিন আগে তার কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দেয়ায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামিরা নিমতলা বাজার সংলগ্ন ওই জমিতে আসে। এসময় দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে মফিজুর রহমান ধাবককে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। কাছে থাকা এক লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা স্বরূপ নিয়ে নেয়। একই সাথে আরো এক লাখ টাকার সবজি নষ্ট করে ফেলে। এরপর মফিজুর রহমান ধাবকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা জীবননাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় কিন্তু বাস্তবে এই ধরনের কর্মকান্ডের কোন নজির নেই।
অপরদিকে এই মামলার প্রধান আসামি যশোর জেলা বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান আলী জানিয়েছেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম ইমনকে নিমতলা বাজারে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলার প্রধান স্বাক্ষী তিনি (ইমরান আলী) ও মোহাম্মদ আলী ক্লে। তাই হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে নিয়ে মিথ্যা ও সাজানো এই চাঁদাবাজি মামলাটি করা হয়েছে। উপরিউক্ত অভিযোগের বাস্তব কোন সত্যতা নেই, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here