আজ মহালয়ায় তিল তর্পণ ,২০ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপুজো শুরু

0
150

১৪ অক্টোম্বর বাঙালি সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শ্রীশ্রী দুর্গাপূজার সূচণালগ্ন মহালয়া। সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের মতে এদিন পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষে মহালয়ার এ শুভক্ষণে দুর্গতীনাশিনী দুর্গা দেবীর আগমনী বার্তা ধ্বনীত হয়।
পুরাণমতে, আশ্বিনী অমাবশ্যার এ দিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। এ দিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। মহালয়া মানেই আর ৬ দিনের প্রতীক্ষা মায়ের পূজার। আর এই দিনেই দেবীর চক্ষুদান করা হয়।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে নানা ধর্মীয় মাঙ্গলিক আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ ১৪ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের শুরু। এরপর ২০ অক্টোবর সকালে ষষ্টাদি কল্পারম্ভে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, ওই দিন বিকেলে পূজারম্ভ। ২১ অক্টোবর সকালে মহাসপ্তমি, ২২ অক্টোবর সকালে মহা অষ্টমী, সন্ধিপুজো রাত আটটা ৬ মিনিট থেকে রাত আটটা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত, ২৩ অক্টোবর সকালে মহানবমী পূজা কল্পারম্ভ এবং ২৪ অক্টোবর সকালে মহাদশমী কল্পারম্ভ- পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটের মধ্যে।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মাহারাজ জানান, শাস্ত্রমতে এ বছর দেবীর আগমন ঘটকে (ঘোড়া); এবং কৈলাসে ফিরে যাবেনও ঘটকে। দেবীর ঘোড়ায় যাতায়াতের ফল হল ‘ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’ অর্থাৎ সবকিছু ছত্রভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। নানা গোলমাল, দাঙ্গাহাঙ্গামা, ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট দ্বারা বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা ঘটে থাকে। ঘোড়া ছটফটে প্রাণী। তাই সে যখন যায়, সব কিছু ছত্রভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে ফসল নষ্ট হওয়ার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা ও খরা দেখা দিতে পারে। মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও হতে পারে।
এ বছর যশোর জেলার ৮ উপজেলায় গত বছরের চেয়ে ৯টি বেড়ে ৭৩২টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজার আয়োজন চলছে পুরোদমে। মন্দিরে ও মণ্ডপে প্রতীমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ভাস্করেরা। আয়োজকরাও বর্ণিল আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। এখন শুধু অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। ৬দিন পরেই চারিদিকে ধ্বণিত হবে ‘রূপং দেহি, যশ দেহি, জয়ং দেহি, দিশো দেহি।’
এ বছর যশোরে সদর উপজেলায় ১৬৭টি মন্দির ও মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে পৌরসভায় পূজা হবে ৫০টি, অভয়নগর উপজেলায় পূজা হবে ১৩৪টি, এরমধ্যে পৌরসভায় ২০টি, মণিরামপুরে পূজা হবে ৯৯টি, এরমধ্যে পৌরসভায় ৯টি, কেশবপুরে পূজা হবে ৯৮টি, এরমধ্যে পৌরসভায় ৯টি, বাঘারপাড়ায় পূজা হবে ৯৭টি এরমধ্যে পৌরসভায় ৪টি, ঝিকরগাছায় পূজা হবে ৫৬টি, এরমধ্যে পৌরসভায় ৯টি, চৌগাছায় পূজা হবে ৪৯টি, এর মধ্যে পৌরসভায় ৭টি ও শার্শায় পূজা হবে ৩২টি এরমধ্যে পৌরসভায় চারটি।উল্লেখ্য, মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দূর্গা সমস্ত অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক রূপে পূজিত। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস । পুরাণ মতে, শিবের বর অনুযায়ী কোন মানুষ বা দেবতা কখনও মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না । ফলত অসীম হ্মমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্ব বক্ষ্রাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। সুর অসুরের দ্বন্দ্বে মহালয়ার এদিনে, দুর্গতীনাশিনী দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান।
শাস্ত্রমতে, মহালয়ার দুইটি পর্ব রয়েছে, একটি পিতৃপক্ষ, অন্যটি দেবীপক্ষ। অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের শেষ হয়, আর প্রতিপদ তিথিতে শুরু হয় দেবী পক্ষ। দেবীপক্ষ তথা মহালায়ার এদিন মত আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনায় গঙ্গাতীরে প্রার্থণা করেন ভক্তরা। মহালয়ার আর একটি দিক হচ্ছে এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপূরুষের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয় তাকে মহালয়া বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষেরও শেষদিন এটি।
ধর্মীয় বিশ্বাস মতে দেবীপক্ষের আগের কৃষ্ণা প্রতিপদে মর্ত্যধামে নেমে আসেন পিতৃপুরুষরা। অপেক্ষা করেন উত্তরসূরিদের কাছ থেকে তিল, তুলসী, জল পাওয়ার। মহালয়ার দিন অমাবস্যায় তাদের উদ্দেশ্যে তিল, তুলসী, জলদানই তর্পণ। তাই এই পুণ্যতিথিতে পিতৃপুরষদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা অর্পণ করেন সনাতন ধর্মবিশ্বাসীরা।
এ দিন মহালয়ার শুভক্ষণে সনাতনধর্মীয় আচারানুষ্ঠান আর বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণে যশোরে তিল তর্পণ অনুষ্ঠানসহ প্রার্থনা ও নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হবে। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শোক, তাপ, দুঃখ, অমঙ্গল, অন্ধকারহরণ করে শুভ, মঙ্গল, আনন্দপ্রদানকারী ও আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী মা’কে হিমালয় থেকে মর্ত্যে বরণ করে নেয়া হবে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here