প্রণব দাস : শারদীয় দুর্গাপুজো চলছে পুরোদমে। বৃষ্টিরূপী বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও সনাতন ধর্মবিশ্বাসী বাঙালির উৎসাহ উদ্দীপনায় জল ঢালতে পারেনি মোটেও। উৎসব আমেজে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপুজোর চতুর্থ দিন (সোমবার) আনুষঙ্গিক মাঙ্গলিক ধর্মীয় আচারানুষ্ঠানসহ দেবীদুর্গার মহানবমী পূজা সম্পন্ন হয়েছে। শাস্ত্রীয় মতে নবমী তিথিতে দেবী দুর্গা পূজিত হন দেবী সিদ্ধিদাত্রী রূপে। সিদ্ধিদাত্রী ঐশ্বরিক এবং পার্থিব আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন এবং অজ্ঞানতা দূর করে জ্ঞান দান করেন।
আজ (২৪ অক্টোবর) দুর্গাপুজোর পঞ্চম দিনে মহা দুর্গা দশমী। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এদিন সকাল ৯টা ৪৯ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন ও দেবীদুর্গার দর্পণ নিরঞ্জনের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় উৎসবের। এদিন মেঘলা আবহাওয়া আর দুপুরের পর মাঝে মাঝে হওয়া বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দির-মণ্ডপে উৎসব আমেজে দেখা যায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
এদিকে বিগত বেশ কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আজ মঙ্গলবার যশোর লালদিঘিতে জাকজমকপূর্ণ আয়োজনে প্রতিমা নিরঞ্জনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন জানান, বিকেল ৬টা থেকে লালদিঘিতে বরাবরের মত নৌকায় করে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে। এ নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। তারা যশোরবাসীকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানাবেন। তিনি জানান পৌর এলাকার শ্রীশ্রী হরিসভা মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালি মন্দির, মুড়লী জোড়া শিব মন্দির, মাড়ুয়া মন্দির, বকচর শ্রীশ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির, চৌরাস্তা, বেজপাড়া পূজা মন্দিরসহ কদমতলা, পূর্ববারান্দী মোল্লা পাড়া, বেজপাড়ার বুনোপাড়া, মেঠোপাড়া, বনানী রোড এলাকা, নিউ বেজপাড়া, শ্রীধর পুকুর, সিটি কলেজপাড়া, চুড়িপট্টি, ষষ্টীতলাপাড়া, শহিদ সুধিরবাবুর কাঠগোলা, বাগমারা পাড়াসহ বিভিন্ন সার্বজনীন মণ্ডপ ও ব্যক্তিগত মন্দিরের প্রায় ৪৯টি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন করা হবে। এদিকে শারদীয় উৎসবের চতুর্থ দিন সকালে সকল দুর্গা মন্দির ও মণ্ডপে ধর্মীয় ক্রিয়াদী পালনের মাধ্যমে দেবীর প্রতি ১০৮টি পদ্মফুল উৎসর্গ, অসুর শক্তি বিনাশ করে দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় হোমযজ্ঞ, অঞ্জলি প্রদানের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয় মহানবমী। এ সময় মাতৃবন্দনায় মেতে ওঠেন ভক্তবৃন্দ। পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তাদের অর্ঘ্য দেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার কমল চরণে। দুপুরে প্রসাদ বিতরণসহ সন্ধ্যায় হয় মঙ্গলারতি।
সরেজমিনে বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপ প্রাঙ্গণে দেখা যায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া শারদীয় উৎসব ঘিরে যশোর পৌর এলাকার ৫০টা পূজা মন্দির ও মণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তার পাশে বিভিন্ন পসরা নিয়ে মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে বেজপাড়া এলাকায় শহিদ সুধির বাবু কাঠগোলা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে গয়ারাম, নিউ গয়ারাম সড়ক, বেজপাড়া পূজা সমিতি মন্দির সংলগ্ন এ মেলা সকলের নজর কাড়ে। এছাড়া সুসজ্জিত তোরণ আর বৈদ্যুতিক রঙিন আলোক সজ্জায় আলোকিত হয়ে ওঠে সকল মন্দির-মণ্ডপ প্রাঙ্গণ।এদিকে পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন উপজেলার পূজা মন্দির পরিদর্শন করেছেন।জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ যশোরের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের নেতৃত্বে ২৩ অক্টোবর নবমী তিথিতে দুর্গতিনাশিনী দুর্গাদেবীকে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান শেষে দুপুরে এ পরিদর্শনে বের হন তারা।
নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ যশোরের সহসভাপতি জয়ন্ত বিশ্বাস৷ দুলাল সমাদ্দার, সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ বকসী, সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিক প্রণব দাস প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ প্রথমে লেবুতলা জয়ন্তী পূজা মন্দির, খাজুরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মাঝিয়ালি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, জহুরপুর দুর্গামন্দির, রায়পুর সার্বজনীন কালী মন্দির, শালবরাট সার্বজনীন কালী মন্দির, বাঘারপাড়া দেবনাথ পাড়া সার্বজনীন কালী মন্দির, বাঘারপাড়ার দেবনাথপাড়া রাধাগোবিন্দ মন্দির, বাঘারপাড়ার দেবনাথপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির, বাঘারপাড়া উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির,বসুন্দিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, বসুন্দিয়া শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির, প্রেমবাগ পুড়াটাল সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, প্রেমবাগের মাগুরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, ঢাকুরিয়ার তারুয়াপাড়াসহ যশোর পৌর এলকাকার মন্দির পরিদর্শন করেন।এদিকে যশোরের পৌর এলাকার বিভিন্ন পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার।















