স্টাফ রিপের্টার : বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ঢাকার অধিনে সর্বশেষ ২০২১সালের ২২ ফেব্রুয়ারী রিক/নবায়ন/২২৫২১১১৫৭৮৮১/নথি নং/৭১১৭ নং স্মারকের অফিস আদেশে ০১/০১/২০২১ হতে ৩১-১২-২০২২ইং তারিখ পর্যন্ত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বোধখানা মাহলি দাখিল মাদ্রাসা (১১৫৭৮৮) এর দাখিল স্বীকৃতির মেয়াদ শেষে হয়ে গেছে। মাদ্রাসার সকল শ্রেণীর চুড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের গুনগত ও সংখ্যাগত মান, মাদ্রাসা বোর্ডের পাবলিক সমাপনী ৫ম, জেডিসি (৮ম) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ার শর্তাবলী থাকলেও সেটা পূরণ করতে না পারায় বর্তমানে দাখিল স্বীকৃতি নবায়ন বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও মাদ্রাসাটির অনিয়মের বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিক, স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন প্রিন্ট মিডিয়া ও জাতীয় সাপ্তাহিকে ধারাবাহিক ৩ পর্বের প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার প্রায় ১৫দিন অতিবাহিত হলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করে সরিষার ভিতর ভুত তাড়াতে মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রকাশিত ধারাবাহিক সংবাদের কপি থাকলেও তিনি আজ না কাল ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তালবাহানা করে বারবার উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ব্যক্তিদের অফিসে এনে চা চক্রের ব্যবস্থা করে বিদায় করে দেন বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়। আদৌ তিনি ব্যবস্থা নেবেন কিনা সেটা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে আছে এলাকার সচেতন মহল।
সম্প্রতি বোধখানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আশরাফুল আলম ও মাদ্রাসার সভাপতি ও আর.এম রিসালাহ মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস.এম মশকুর আলমের ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে নিরাপত্তা কর্মী তহিদুজ্জামান রনীকে শিক্ষকের চেয়ারে বসিয়ে ক্লাসসহ ক্রমাগতই মাদ্রাসা বিষয়ে খুটিনাটি সমস্যা লাগিয়ে রাখেন। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইবতেদায়ি কারি শিক্ষক মাকছুদা মাদ্রাসাতে যোগদান করার পর বিগত প্রায় ৩বছর মাদ্রাসায় কোনো ক্লাস নেননি। কখনো ২/৩ মাস পরে আবার কখনো মাসে এক-দু’বার প্রাইভেট কারে করে মাদ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যান এবং প্রতিমাসে বেতনের সমুদয় টাকা উত্তোলন করেছেন। মাকছুদার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানের সভাপতির চাচাতো বোন সালমা খাতুনকে। তাকে প্রতি মাসে ৭হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার ও সভাপতি এ বিষয়ে কোনো কিছু বলেন না।
মাদ্রাসার জুনিয়ার মৌলভি শিক্ষক কবির হোসেনের নামে ভূয়া নিবন্ধনের সনদধারী জাল/জালিয়াতির আশ্রয়ে চাকরী নিয়ে ১৩বছর যাবৎ বিশাল তবিয়তে চাকরী করে ভুয়া সার্টিফিকেটকে পরবর্তীতে শুদ্ধ করা হয়েছে বলে ভূক্তভোগীর দাবি। কিন্তু যে ভুয়া সার্টিফিকেটে শিক্ষক কবিরের চাকরী হয়েছে সেই শিক্ষকের চাকরী কতটা যৌক্তিক। ভুয়া সার্টিফিকেটের চাকরীর বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এ ২০২১ সালের ০১ ডিসেম্বর আবেদন দাখিল করেন। যার সূত্র ধরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর দ্বারা বিগত ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০২.২০.৭৪৬নং স্মারকে শিক্ষক নিবন্ধন যাচাইয়ের বিষয়ে মাদ্রাসার জুনিয়ার মৌলভি শিক্ষক কবির হোসেনের শিক্ষকের সনদধারী জাল/জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন মর্মে দালিলিকভাবে প্রমাণিত হলেও জাল ও ভূয়া সনদধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক অত্র অফিসকে অবহতি করার জন্য সুপার (ভারপ্রাপ্ত) কে নির্দেশনা দেওয়া হলেও অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। তবে ২০২১সালের প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি কবিরের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন বলে শোনা যায়। বর্তমানে কবির হোসেনে ভূয়া নিবন্ধনের সনদধারী জাল/জালিয়াতির আশ্রয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিশাল তবিয়তে চাকরী করে যাচ্ছে। জাল/জালিয়াতি করে ১৩বছর যাবৎ সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারের কোষাগারে জাল/জালিয়াতি করে মাসের পর মাস যে অর্থ গ্রহণ করেছে। সেই গ্রহণকৃত অর্থ সরকারি তহবিলে ফেরৎ নিতে প্রশাসনের নিকট এলাকার সচেতন মহল জোর দাবী জানালেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে সেটা চা চক্র পর্যন্ত সিমাবদ্ধ হতে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন মিয়া বলেন, তাদের কাগজপত্র আনার কথা ছিল। তবে আমার যশোরে প্রোগ্রাম থাকার কারণে আমি বৃহস্পতিবার অফিসে যায়নি। আমি কাগজপত্র গুলো নিয়ে পাঠিয়ে দিবো।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহফুজুল হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার হয়েছে এটা বললে তিনি সেটা এরিয়ে গিয়ে বলেন, আমি বাহিরের ফিল্ডে আছি। এক সময় আপনি অফিসে এসে ঘটনার বিষয়ে লিখিত দিলেই আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।















