মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ মণিরামপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী শ্লীতাহানীর ঘটনা, প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছা মত বন্ধ রাখা ও সিরিয়ালের জন্য ৫ টাকা নেওয়া অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। তার কারণে এলাকার অসহয় মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে কারণে এলাকার সাধারণ জনগণ প্রসাশনিক তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থ নেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছে।
সূত্রে জানাযায়, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য গ্রামাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করেছেন। কিন্তু কিছু অসাধু লোকজন স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দেওয়ার কারণে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। তাদের বাড়ি বা নিজের সব কাজ করে ইচ্ছা মত ক্লিনিক খোলে আর বন্ধ করে রাখে। এসব স্বাস্থ্য কর্মীর করণে সরকারের ভাবমূতি নষ্ট হচ্ছে বলে অনেকের দাবী। এমন ঘটনা ঘটেছে মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী (সিএইচসিপি) শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রথম প্রথম এখানে প্রতিদিন শত শত লোকজন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য এসে ভিড় করতো। কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী শরিফুল ইসলাম সুন্দরী নারীর প্িরত তার আকর্ষণ ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে আস্তে আস্তে এলাকায় গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে ক্লিনিক থেকে অনেক নারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে জয়পুর গ্রামের রাসেলের অর্ন্তসত্তা স্ত্রীকে চেকাপের কথা বলে আলাদা রুমে নিয়ে অপকর্ম করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় শরিফুল ইসলাম। পরে গ্রামে অনেকবার শালিস বৈঠক করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে মণিরামপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ভোক্তভুগি। অভিযোগের পর ভোক্তভুগির উপর শরিফুল ইসলাম বিভিন্ন লোকজন দিয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যায় সুলতান মাষ্টার দিয়ে সাত হাজার টাকার বিনিময় গোপনে মিমাংসা করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিরিয়ালের জন্য সরকারী টিকিট ৫ টাকা করে নেয়। আর শরিফুল ইসলাম সবার কাছ থেকে ৫টাকা নিচ্ছে। প্রতিটি লোকের কাছ থেকে ৫টাকা নিয়ে খাতায় উঠাছে ২ টাকা ৩টাকা করে। এসব টাকা সে নিজের ইচ্ছা মত খরচ করে থাকে। সরেজমিনে বুধবার ১২টার সময় গিলে দেখা যায় ক্লিনিক বন্ধ। সেখানে কোন নোটিশ বোর্ড না থাকায় অনেক লোকজন ওষুধ নেওয়ার জন্য দাঁড়ি আছে। কথা হয় আনিছুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, কি বলবো ভাই ১ নভেম্বর বুধবার ১১টার সময় এসে দেখি তালা দেওয়া, ৫ নভেম্বর রবিবার সাড়ে ১০ টার সময় ও ৮ নভেম্বর বুধবার ১১টার সময় এসে আবার দেখি তালা দেওয়া। ইজ্জেত আলী জানায়, কি বলবো ক্লিনিকের কথা, সে ইচ্ছা মত আসে আর যায়। প্রতিদিন অনেক লোক ওষুধ না নিয়ে বন্ধ পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। আমেনা বেগম জানায়, আমি আজ কয়েক দিন ঠান্ডা জ্বরে ভুগছি। শুধু কষ্ট করে এসে বসে থেকে আবার চলে যাচ্ছি, ডাক্তার পাচ্ছি না, ওষুধ নিতে পারছি না। স্বাস্থ্য কর্মী শরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কয়েক বার ফোন দিয়ে জানার চেষ্টা করা হলে সে ফোনটি রিসিভ করেনি। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার তন্ময় বিশ্বাস জানান, ক্লিনিক বন্ধ রেখে সে ভুল করেছে। আমি জানি বুধবার শরিফুলের স্ত্রীর পায়ে একটি অপরেশন করেছে। সিরিয়ালের জন্য ৫টাকা নিতে হবে এমন কোন বাধ্যগতা নেই। যে যা পারে তাই নিতে হবে না দিলে কোন কথা নায় ওষুধ দিতে হবে। আমি দ্রুত তার বিরুদ্ধে যা বলেছেন তদন্ত করবো।















