অভয়নগরে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েও বেতন পাননি ৬২ জন শিক্ষক

0
179

মিঠুন দত্ত: যশোরের অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশকৃত ৬২ জন শিক্ষকের নিকট থেকে মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) এর জন্য প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা গ্রহন করেছেন। দুই মাস আগে ঘুষ দিয়েও তারা বেতন পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস সুত্রে জানা গেছে, বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্র্তৃপক্ষ অভয়নগরে মাদ্রাসায় ৪০ জন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩২ জন ও কলেজে ৪ জনকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ প্রদানের সুপারিশ করেন। এরমধ্যে ৬২ জন যোগদান করেন। তারা নিয়ম মেনে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মান্থলি পে অর্ডার ( এমপিও) এর জন্য আবেদন করেন। এরজন্য প্রতি শিক্ষকের নিকট থেকে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা গ্রহন করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো: আযুব হোসেনের মাধ্যমে এ টাকা গ্রহন করা হয় বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। নিয়মানুযায়ী তাদের অক্টোবর মাসের এমপিওর সাথে তাদের বেতন আসার কথা কিন্তু তা আসেনি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে শিক্ষকরা বেতন পাননি বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন। নিয়ম রয়েছে যোগদানকৃত শিক্ষকদের যোগদানের সকল কাগজপত্র অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষাকর্মকর্তার নিকট জমা প্রদান করতে হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতি মাসের ৫ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে কতৃপক্ষের নিকট প্রেরন করে থাকেন। গত দুই মাস আগে ওই সকল শিক্ষক যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা যথা সময়ে তাদের কাগজপত্র অনলাইনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যোগদানকৃত কয়েকজন শিক্ষক জানান, যোগদানের পর জানতে পারলাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষককে এমপিও’র জন্য ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয় এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী আয়ুব আলীকে কিছু টাকা দিতে হয় তাই আমরা ৭ হাজার টাকা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে দিয়েছি। কিন্তু অক্টোবর মাসের এমপিওর সাথে আমাদের বেতন আসার কথা থাকলেও তা আসেনি।জানতে পেরেছি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেন সময় মত সকল কাগজপত্র শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছি। কিন্তু নতুন পরিপত্র এসেছে আরো একটি কাগজ জমা দিতে হবে তা শিক্ষা অফিসার আমাদের জানাতে ভুলে গেছেন তাই ওই শিক্ষকরা বেতন পাননি।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সহায়ক আয়ুব আলী বলেন কাজের জন্য ২/৩ হাজার টাকা করে নিয়েছি। এর থেকে কেউ বেশী বললে আমার সামনে নিয়ে আসেন। তবে স্যারের নামে টাকা নেয়া হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, এনটিআরসিএ ৭৬ জনের সুপারিশ করলেও তাদের মধ্যে ৬২ জন যোগদান করেছে। কলেজের ৪ জন আমার কাছে আসে না। বাকীদের কাগজপত্র যেভাবে এসেছে সেভাবে পাঠিয়েছি। তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here