বেশবপুরে মাছের ঘেরের পানিতে ডুবছে কৃষকের আমন ধান

0
154

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি : কেশবপুরে কৃষকের পাকা আমন ধান মাছের ঘেরের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে রয়েছেন কৃষকরা। পানির মধ্য থেকে ধান কেটে উচু স্থানে উঠাতে কৃষকের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। ২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এলাকার সকল মাছের ঘেরে একসঙ্গে সেচ শুরু হলে উপজেলার পাঁজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়নের নিচু এলাকার মানুষের বাড়িতে পানি উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার কেশবপুর পৌর এলাকার খ্রীস্টান মিশনের পিছনের কেশবপুর বিলে গিয়ে দেখা যায়, পানির ভেতর থেকে কৃষকরা পাকা ধান কেটে উচু স্থানে নিচ্ছেন। কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, মাছের ঘেরের পানি হরিহর নদ ও খোঁজাখালী খালে ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে বিলের পানি নিষ্কাশনের নালা ও ড্রেন দিয়ে ভেতর ঢুকে কৃষকের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। তাদের এলাকায় প্রায় ১০ বিঘা জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, খোঁজাখালী খালের পানি ড্রেন দিয়ে ঢুকে তার ২ বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। পানির ভেতর থেকে পাকা ধান কাটতে তাকে অতিরিক্ত টাকাও গুনতে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ আপার ভদ্রা নদী পলিতে ভরাট হওয়ার কারণে ঘেরের সেচের পানি সহজে নিষ্কাশিত হতে না পেরে নদী ও খাল সংলগ্ন বিলে পানি ঢুকে কৃষকের আমন ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলর সরফাবাদ গ্রামের কৃষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, আলতাপোলসহ এলাকার বিভিন্ন মাছের ঘেরের পানি উত্তোলন করে গোলাঘাটা খালের ভেতর ফেলার কারণে উপচে পড়া পানি কৃষকের জমিতে ঢুকে পড়ছে। তাঁর দেড় বিঘা জমির কেটে রাখা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। বাধ্য হয়েই গত সোমবার সকালে ক্ষেত থেকে ভেজা ধান সরিয়ে নিয়ে উচু স্থানে রেখেছেন।
কেশবপুর ২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক বাবুর আলী গোলদার বলেন, মাছের ঘেরের সেচের পানি নদ-নদীতে ফেলার কারণে কৃষকের আমন ক্ষেত উপচে পড়া পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এলাকার সকল মাছের ঘেরের পানি একসঙ্গে সেচ শুরু হলে উপজেলার পাঁজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়নের নিচু এলাকার মানুষের বাড়িতে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন বলেন, গত ১৮-১৯ অর্থ বছরে নদ-নদী ১২ ফুট পর্যন্ত গভির করে খনন করা হয়েছিল। গত ৪ বছরে আপার ভদ্রা নদী ৫-৬ ফুট পর্যন্ত পলি পড়ে ভরাট হয়েছে। যে কারণে কিছুটা পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে। নদ-নদীতে অসম্ভব পলি আসছে। তবে হরিহর ও খোঁজাখালী খান দিয়ে পানি প্রবাহ হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here