চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি ॥ সদর উপজেলা চুড়ামনকাটি বাজারে হাইওয়ে রাস্তার পাশে ধুলো বালি মিশ্রিতভাবে বিক্রি হচ্ছে ভাজাপোড়া। আগের দিনের বাঁশি খাবার গুলো পরের দিন সকালে গরম তেলে ভেজে নতুন খাবারে সাথে বিক্রি করছে এইসব ভাজাপোড়া।
যশোর ঝিনাইদহ হাইওয়ে সড়কটি একটি ব্যস্ততম সড়ক বলে পরিচিত। এই সড়কের চুড়ামনকাটি বাজারে রাস্তার অবস্থা ভালো না থাকায় এলজিডি রাস্তা মেরামত করেছে ইট বালি দিয়ে। খুব বেশি গাড়ি চলাচলের ফলে ইট ভেঙ্গে বালি মিশ্রিত হয়ে এমনভাবে ধুলাবালি উড়ে, যা দেখলে ঝড়ো হাওয়ার মতো মনে হয়। ওই সব ধুলাবালি যেয়ে পড়ে খাবারের পড়ে। সেই অবস্থায় খাবারগুলো বিক্রি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সারাদিন বিক্রি করার পরে যে খাবার বেচে থাকে সেগুলো রেখে দেয় দোকানদারেরা। পরে দিন সকালে নতুন খাবার তৈরিতে গরম তেলের সাথে ওই পুরাতন খাবার গরম করে বিক্রি করছে ভাজাপোড়া। পুরাতন বাঁশি খাবার কেনার ফলে অনেকেই অসুস্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফিরে এসে দোকানে বলে তারা একজন অন্যজনকে দেখিয়ে দেয়। কেউই তার নিজের দায় স্বাীকার করতে চাইনা। প্রায় অর্ধডজন ভাজাপোড়ার দোকান আছে রাস্তার পাশে। ভাজাপোড়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কমবেশি সকলে জানলেও নেই সেদিকে কোন খেয়াল।
রাত্রে দোকান বন্ধ করে চলে গেলে সেই জায়গা আসে কুকুরের দখলে। ভাজাপোড়ার দোকানে সারারাত কুকুর ঘুমিয়ে থাকে। কুকুরে কুকুরে কামড়াকামড়ি করে। সরেজমিনে দেখা যায় একটি কুকুরের ঘাড়ে ঘাঁ হয়েগেছে। আর সেই কুকুরটি এইসব দোকানের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে থাকে।
সিনিয়র ন্যাচারাল ইউনানি মেডিসিন ও আর্য়ুবেদী বিশেষজ্ঞ ফিজিশিয়ান হাকিম মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খোলা বাজার কিংবা নোংরা পরিবেশের ভাজাপোড়া খাবারে ক্যালরির মাত্রা অনেক বেশি থাকে। ভাজা খাবারের তেলে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, যা শারীরে এলডিএলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এলডিএল বা লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন যা খারাপ কোলেষ্টোরল হিসেবে চিহ্নিত। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি বিষয় প্রামাণিত যে, অতিরিক্ত ভাজা খাবার খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধিা পায় যা হৃদরোগ হওয়ার অন্যতম কারণ। তাছাড়া ভাজা খাবারে ওজন বৃদ্ধি করে। নোংরা এসব তেলে ভাজা খাবারে থাকে এক ধরনের অনু যা অ্যাডভ্যান্সড গ্লাইকেশন এন্ড প্রডাক্ট (এজিই) নামে পরিচিত। এই এজিই শারীরে ঢুকে কোষে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। যার কারণে প্রতিরোধ শক্তি কমতে শুরু করে। তাই আমাদের উচিত রাস্তার পাশের এসব নোংরা ধুলাবালি যুক্ত ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করে সু স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ও সুস্থ থাকা। স্বাস্থের ক্ষতির কারণে ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। ক্রেতাদের অনেকেই বলেন, বাড়ির খাবারে একঘেয়েমি চলে আসাতে এসব ভাজাপোড় খাচ্ছেন তারা। দোকানদারেরা বলেন, এই ভাজাপোড়া বিক্রিই তাদের জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।















