যশোরে ট্রেন-ট্রাক দুর্ঘটনা ঘুমিয়ে ছিলেন গেটম্যান প্রাণ গেল ট্রাক চালক-হেলপারের

0
178

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর-চৌগাছা সড়কের চুড়ামনকাটি রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাক চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন। রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাগমারী গ্রামের বাহাদুর মিয়ার ছেলে ট্রাক চালক পারভেজ হোসেন (৫০) ও মহেশপুর উপজেলার আজমপুর গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদের ছেলে হেলপার নাজমুল ইসলাম (৪০)। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় প্রচন্ড কুয়াশাচ্ছন্ন ছিলো। ওই সময় গেটম্যান ঘুমিয়ে ছিলেন। গেটম্যানের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে ওই রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা রকেট মেইল ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশ্য যাচ্ছিলো। ট্রেনটি যখন যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি রেল ক্রসিং পার হচ্ছিলো; এসময় চৌগাছাগামী ভূষিবাহী (ঝিনাইদহ ট- ১১-১৬৬৭) একটি ট্রাক ক্রসিংয়ে উঠে পড়ে। রেল ক্রসিংয়ের ব্যরিয়ার (প্রতিরোধক বার) খোলা থাকাতে ট্রাকটি ক্রসিংয়ে ঢুকে পড়ে। এমন সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ট্রাকের হেলপার ও ড্রাইভার ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে পুলিশ, সদর পুলিশসহ প্রশাসন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা চুড়ামনকাটি গ্রামের আনিসুর রহমান বলেন, ‘আজ ভোর থেকেই এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত ছিলো। বাড়ির মধ্যে থেকে বিকট শব্দ শুনে রাস্তায় বের হয়ে দেখি রেল লাইনের পাশে উল্টে আছে বড় ট্রাক। ট্রাকটি দেখেই বুঝলাম ট্রেনের ধাক্কা খেয়েছে। কাছে যেয়ে দেখি ট্রাকের ভিতরে দুটি মানুষ। তারা দুজনেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এরপর পুলিশ আর ফায়ার সার্ভিস এসে ট্রাকে থাকা ভুষি সরিয়ে ট্রেন লাইন পরিস্কার করে। আর নিহত দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তিনি জানান, এই রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বে ছিলেন চুড়ামনকাটি দাসপাড়া এলাকার সজল কুমার। তিনি গেট লাগানোর দায়িত্ব পালন না করে ঘুমিয়ে থাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যশোর সেনানিবাস ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা নাহিদ মামুন বলেন, ‘সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। ভুষিবোঝাই ট্রাকটি উল্টে গেছিল। তার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আমরা স্পট ডেড হিসেবে ট্রাকের চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করি। তিনি আরও বলেন, আমরা রেল লাইনের উপরে পড়া থাকা ভুষি পরিষ্কার করি। পরে পুলিশ এসে ট্রেকার দিয়ে ট্রাকটি সরিয়ে ফেলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here