যশোরের বাঘারপাড়ায় এখন পাকা চাতালে সূর্যের আলো বিক্রি হচ্ছে 

0
156
বসুন্দিয়া প্রতিনিধি : “সূর্যের আলো বিক্রি” কথাটা আশ্চর্য মনে হলেও সত্য। বাঘারপাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে পাকা চাতালে রোদ বিক্রি হয়ে থাকে স্বস্তিতে কৃষক পরিবার। তারই ধারাবাহিকতায় এলাকার মানুষের দুঃখ কষ্ট  দুশ্চিন্তা দূরীকরণের লক্ষে একটি মহতী উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মুহা. নুরুজ্জামান মোল্লা। তিনি এক একর জমির উপর গড়ে তুলেছেন পাকা চাতাল। যেখানে সারা বছর কৃষি পণ্য ধান, পাট, মসুরি, সরিষা ইত্যাদি রোদে শুকানোর জন্য দুর্ভোগ পোহাতে যাতে না হয়। ফলজ, বনজ গাছ পালায় ঘেরা মনোরম রোদ উজ্জল পরিবেশে জামদিয়া ইউনিয়নের বারভাগ গ্রামে নিজের জমিতে গড়ে তুলেছেন রাইচ মিল। পাশাপাশি এক একর জায়গায় পাকা চাতাল তৈরি করেছেন। জনস্বার্থের দিকে বিবেচনায় সীমিত খরচে খাদ্যশষ্য শুকানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সূর্য উদয় থেকে অস্ত পর্যন্ত রোদে শুকাতে প্রতি মন নির্ধারণ করেছেন মাত্র ৬ টাকা। এতে খরচের বিবেচনায় উপকারিতা হচ্ছেন সাধারন মানুষ। তাছাড়া নিজস্ব রাইচ মিলে মাড়াই করানো চাউল, আটা, তৈল সহ গোখাদ্য তৈরির সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বাড়িতে ধান সিদ্ধ করে রোদে শুকাতে এখানে নিয়ে আসেন কয়েক গ্রামের মানুষ। শুকানো হলে এই মিল থেকে চাউল তৈরি করে এক বারে ঘরে নিয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে চাতালের পাশে বড় গোডাউনে রাখার সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়ে থাকে। সরোজমিনে দেখতে গেলে সত্যপাঠ প্রতিবেদককে একজন মা বয়সী বৃদ্ধা বলেন, মোল্লার ছেলে আমাদের দুঃখ কষ্ট দেখে নিজের টাকা দিয়ে এ চাতাল বানিয়েছে, আমরা অনেক উপকার পাচ্ছি। আরো বলেন, ৭/৮ জন প্রতিদিন ধান শুকিয়ে থাকেন। ৬ টাকা মন প্রতি নির্ধারণ করলেও ৫ টাকার বেশী কেউ দেয়না। মোল্লা চাতালের ম্যানেজার মোঃ তুহিন মোল্যা বলেন, এখানে সুবিধা আছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোদের কোন ঘাটতি নেই। তারপর পাকা চাতালে দ্রুত শুকানো যায়। সীমিত ভাবে কিছু টাকা নেওয়া হয়ে থাকে। কোন জোরজুলুম করা হয় না। এবিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আরো অনেক জায়গায় এধরণের ব্যবস্থা রয়েছে। তারমধ্যে জামদিয়া ইউনিয়নের দত্তরাস্তা নামক স্থানে মোঃ মশিয়ার বিশ্বাসের চাতালে ৫ টাকা প্রতিমনে রোদ বিক্রি হচ্ছে। ভাঙ্গুড়ায় বিনা মূল্যে চাতালে ধান শুকানো হয় বলে অনেকে জানান। বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজারে কয়েকটি চাতাল রয়েছে। সেখানেও ৫ টাকা নেয়া হয় বলে উপকার ভোগীরা বলেন। একই নিয়মে সূর্যের আলোর মূল্য দিতে হয়। আবার দিনপ্রতি ভাড়াও দেওয়া হয় বলে অনেকে জানান। গ্রাম অঞ্চলে ঘনবসতি তার উপর গাছপালায় আবদ্ধ কৃষক পরিবারের উঠান ছোট হয়ে গেছে। বেশির ভাগ বাড়িতে উঠানই নেই বল্লে চলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সর্বদিক বিবেচনায় বাজার এলাকা সহ পল্লি গায়ে পাকা চাতাল তৈরি হচ্ছে। তাতে কৃষক পরিবার উপকৃত এবং সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে বলে সাধারন মানুষের অভিমত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here