এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুরে সরিষা ক্ষেতে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। লাভবান হওয়ায় গত বারের থেকে এবার কৃষকরা বেশি আবাদ করেছেন সরিষার। উপজেলার মাঠের পর মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে যেন ঝরছে কৃষকের মুখে হাসি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ উপজেলায় ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। ফলন ভালো হওয়ায় এবার কৃষকরা ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন সরিষার। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার মাঠে মাঠে চাষ হয়েছে সরিষার। সরিষার হলুদ ফুলে কৃষকের পাশাপাশি পথচারীদের মনও যেন রাঙ্গিয়ে দিচ্ছে। উপজেলার আঠণ্ডা গ্রামের কৃষক রাজু আহম্মেদ বলেন, গতবার তিনি সরিষা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন। এবার তিনি ৫১ শতক জমিতে আবাদ করেছেন। ফুল ও ফলও ভালো ধরেছে। তিনি বলেন, বাতাসে ক্ষেতে সরিষা ফুল দুলতে দেখে তার মনের স্বপ্নও যেন দোল দিচ্ছে। মাঠে সরিষার ফুলে ফুলে পরাগায়ণে মৌমাছি উড়ে বেড়ানো যেন পথচারীদের আকৃষ্ট করে তুলছে।
উপজেলার মূলগ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, বারো মাসই সংসারে সরিষার তেল ব্যবহারের জন্য প্রতি বছর সরিষা চাষ করে থাকেন। এবার তার ১০ কাঠা জমিতে ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন।
উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের মোড়ল বলেন, গত বছর তিনি ১ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করে ছিলেন। এবার দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। ফলন খুবই ভালো ধরেছে। ক্ষেতের ফুল ও ফল দেখে লাভবান হবেন বলে জানান।
ভালুকঘর গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, সোনাতলার, ভালুকঘর, বরণডালি ও বোয়ালিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মাঠের সরিষার ফুলের সৌন্দর্য দেখার জন্য বিকালে এলাকার মানুষ ক্ষেত্রের ধারে এসে ভিড় করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, সরিষা চাষ লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই কৃষকরা এ চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।















