যশোর-২: নৌকা-ট্রাকের ধ্রুপদী লড়াই, কদর বেড়েছে বিএনপি-জামায়াতের ভোটারদের

0
183

চৌগাছা (যশোর): জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসন সব সময়ই নৌকার নিরাপদ আসন হিসেবে থেকেছে। আসনটির আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেয়েছেন। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটির সাবেক এমপি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির ট্রাক মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন বলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের দাবি।তাদের দাবি সাবেক এমপি মনিরুল বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের ধারণা বিএনপি-জামায়াতের ভোটাররা বেশি সংখ্যক ভোট দিতে পারলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।  এখানে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমদের একমাত্র মেয়ের জামাই স্কয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন। তার বিপক্ষে ট্রাক প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এই আসনের ২০১৪-১৮ মেয়াদের এমপি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির। তিনি ১৯৭০ সালের গণপরিষদ সদস্য মরহুম আবুল ইসলামের ছেলে। সাবেক এমপি মনির ২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও এলাকা ছাড়েননি। নির্বাচনী এলাকার দলমত নির্বিশেষে কেউ মারা গেলে জানাজায় উপস্থিত থাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে দলীয় নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছেও একজন নিবেদিত রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।অন্যদিকে তোফায়েল আহমদের জামাতার পাশাপাশি ডা. তুহিন এলাকায় সজ্জন এবং বিশেষজ্ঞ হার্টের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। বিনয়ী হিসেবে তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এ অঞ্চলের রাজনীতিবীদ চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান, ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান, ঝিকরগাছা পৌর মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল, চৌগাছা পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল, চৌগাছার সুখপুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, স্বরুপদাহ ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল কদর, জগদীশপুর ইউপি চেয়াররম্যান সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, সিংহঝুলি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মল্লিক, ধুলিয়ানী ইউপি চেয়ারম্যান এস এম মোমিনুর রহমান, ঝিকরগাছার শংকরপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোবিন্দ চ্যাটার্জি, নির্বাসখোলা ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান, পানিসারা ইউপি চেয়ারম্যান নওশের আলী, নাভারণ ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী, মাগুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, শিমুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানসহ দুই উপজেলার অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন নৌকার প্রার্থী ডা. তুহিনের সাথে রয়েছেন।অন্যদিকে অ্যাডভোকেট মনিরের সাথে আছেন ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফুলসারা ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী মাসুদ চৌধুরী, চৌগাছা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়, চৌগাছা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাশাপোল ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ, নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান, চৌগাছা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ঝিকগাছার হাজীরবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু, ঝিকরগাছা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন, গঙ্গানন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানসহ দুই উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সিংহভাগ পদ-পদবীধারী নেতৃবৃন্দ।এছাড়া ঝিকরগাছার বাঁকড়া এবং চৌগাছার হাকিমপুর ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যানরা বিএনপি সমর্থিত এবং গদখালীর ইউপি চেয়ারম্যান মারা গেছেন।চৌগাছা-ঝিকরগাছার নির্বাচনী ইতিহাসে কখনো কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির ঝিকরগাছা উপজেলাতে সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কাছে পরাজিত হলেও চৌগাছা উপজেলায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন।দুই উপজেলার অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি নৌকার প্রার্থীর পক্ষে থাকায় এবং নির্বাচনী ইতিহাসে কখনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়ী না হওয়ার কারনে নৌকার সমর্থকরা বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে অনেকটাই নিরাপদ ভাবছেন। তাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নৌকার পক্ষে দিনরাত পরিশ্রম করে যাওয়ায় নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত বলে নৌকার নির্বাচনী কর্মীরা ছাড়াও পর্যবেক্ষকদের ধারণা। নৌকার কর্মীদের দাবি তারা ঝিকরগাছা উপজেলার পাশাপাশি চৌগাছা উপজেলায়ও বিজয়ী হয়ে ৭ তারিখে বিজয়ের মালা পরবেন। অন্যদিকে বেশ কয়েকজন নৌকার ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় এবং ২০১৪ সালের ভোটে সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম চৌগাছায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় ট্রাক প্রতীকের সমর্থকরা ভাবছেন তাদের প্রার্থী বিজয়ী হবেন। মনিরুল ইসলামের সমর্থকদের দাবি এই আসনে বিএনপি-জামায়াতের বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। তারা ভোট দিতে আগ্রহী। ভোটের মাঠে গেলে তারা নৌকার বিপক্ষে ট্রাক প্রতীকে ভোট দেবেন। সুষ্ঠু ভোট হবে এবং তারা ভোট দিতে পারবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করছেন ট্রাকের কর্মীরা।এসব ভোটার যেনো নিরাপদে মাঠে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সে বিষয়ে চেষ্টা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা। ট্রাকের কর্মীদের দাবি বিপুল ভোটে তারা ৭ জানুয়ারি বিজয়ের মালা পরবেন। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত বেশ কিছু ভোটারের সাথে কথা বলেও এই দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে।এদিকে স্বতন্ত্র এবং নৌকা উভয় প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ থেকে উপজেলা বিএনপি এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড নেতাদের সাথেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে উভয় দলের দায়িত্বশীল নেতারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছার শর্তে নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশ্যে এসব নেতারা বলছেন আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে আমরা এবং আমাদের কর্মীরা ভোটদান থেকে বিরত থাকবো। সেভাবে ভোটদানে বিরত থাকার প্রচারণাও চালাচ্ছি।এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন বলেন, এ অঞ্চলের ভোটাররা সব সময়ই নৌকার পক্ষে থেকেছেন। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনেও তারা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করবেন। নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, সুষ্ঠ ভোট হলে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে ট্রাক মার্ক বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। সার্বক্ষণিক রাজনীতিবীদ হিসেবে এ অঞ্চলের ভোটারদের পাশে থেকেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here