জমে উঠেছে সাগরদাঁড়ির মধুমেলা

0
185

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: মধুমেলা জমে উঠেছে। শুক্রবার বন্ধের দিনে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত এখন মধুকবির জন্মভূমি সাগরদাঁড়ি। রাত ও দিনে হাজারো দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কবির বসতভিটা, কপোতা নদ পাড়, বিদায় ঘাট, কবির স্মৃতি বিজড়িত বুড়ো কাঠবাদাম গাছতলা ও মধুমেলা প্রাঙ্গণ দণি-পশ্চিমাঞ্চলের মধুভক্তদের প্রাণের মেলায় রূপ নিয়েছে। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলে গত ১৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) থেকে যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে শুরু হয়েছে ৯ দিনব্যাপী মধুমেলা।
শুক্রবার মেলার ৮ম দিন সকাল থেকে মেলার মাঠসহ কপোতা নদ পারে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা দেখা গেছে। এবারের মধুমেলায় দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য মধুমঞ্চে কেশবপুর ও যশোরের শিল্পীগোষ্ঠীসহ দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের আলোচনা, কবিতা, সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি প্যান্ডেলে সার্কাস, যাদু প্রদর্শনী ও মৃত্যুকূপ রয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলাসহ নানা আয়োজন। মেলার মাঠে কুটির শিল্পসহ প্রায় ৫ শতাধিক বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছে। এছাড়া মেলার মাঠে বসানো হয়েছে বাহারি আকারের তৈরি মিষ্টির দোকান। হরেক রকমের পান, মটকা চা, ফুচকা-চটপটি, আচার ও মোয়া-মুড়ির দোকানগুলোতে রয়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। মেলার মাঠের এক পাশে রয়েছে খাট পালঙ্গসহ আসবাবপত্রের দোকান।
কপোতা নদ পারের কবির স্মৃতি বিজড়িত কাঠবাদাম গাছ তলার পাশে বসানো হয়েছে আন্ডারগ্রাজুয়েট নামে একটি চায়ের স্টল। ওই স্টলে কথা হয় ঢাকার বাসাবো থেকে আসা রোজিনা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে শাহেদ খান ও স্কুল পড়ুয়া ছেলে জায়েদ খানকে নিয়ে সাগরদাঁড়ি মধুমেলায় এসেছেন। আন্ডারগ্রাজুয়েট চায়ের দোকানে চা-নাস্তা করে জানান, মেলা প্রাঙ্গণের পাশে সুন্দর পরিবেশে বসানো স্টলটি দর্শনার্থীদের জন্য খুবই ভালো হয়েছে।
সাতীরা জেলার তালা উপজেলার মানিকহার গ্রাম থেকে এসেছেন মুজিবুর রহমান, তবিবুর রহমান, মহব্বত হোসেন। তারা তিন বন্ধু। সারাদিন কপোতা নদ পার, মেলার মাঠ ঘুরে বিকেলে মধুমঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাদেরকে মুগ্ধ করেছে। প্রতিবছরই মেলায় আসেন। মুজিবুর রহমান বলেন, মধুমেলা তাদের প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু কপোতা নদের উপর ব্রীজ নির্মাণ না হওয়ায় মেলার সময় দর্শনার্থীদের যাওয়া আসায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মেলার মাঠে বসানো হয়েছে বাহারী মিষ্টির দোকান। পরিতোষ নন্দির দোকানে একটি রাজভোগ মিষ্টির দাম ৭০০ টাকা এবং একটি বালিশ মিষ্টির দাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানের কর্মচারী শিমুল ঘোষ জানায়, বিক্রি তেমন একটা ভালো হচ্ছে না।
উপজেলার বড়েঙ্গা থেকে আসা ফাতেমা খাতুন বলেন, শুক্রবার বন্ধের দিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মধুমেলায় এসেছি। মেলা থেকে বড় মেয়ে তামিহার জন্য ব্যাগ, মেঝ মেয়ে ফাবিহার জন্য মাথার ব্যান্ড ও গলার মালা ও ছোট মেয়ে রুহির জন্য বিভিন্ন খেলনা কেনা হয়েছে। মধুমেলায় এসে কবির বসতভিটা, কপোতা নদ পার, বিদায় ঘাট, কবির স্মৃতি বিজড়িত বুড়ো কাঠবাদাম গাছতলা ও মধুমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে খুবই ভালো লেগেছে।
বাগেরহাট শহর থেকে মেলা দেখতে আসা রায়হান হোসেন বলেন, মধুমেলার কথা অনেক শুনেছি, কিন্তু কখনো আসা হয়নি। এবারই প্রথম মধুমেলায় এসেছি। মেলার মাঠ ও কপোতা নদ পার ঘুরে বিভিন্ন প্যান্ডেলের অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ হয়েছি।
মধুমেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, দিনের বেলায় নারী দর্শনার্থী এবং রাতের বেলায় পুরুষ দর্শনার্থীদের ভিড় হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে বিভিন্ন স্টল গুলোতে নারী দর্শনার্থীরা সাংসারিক মালামালসহ ছেলেমেয়েদের জন্য বিভিন্ন খেলার সামগ্রী ক্রয় করতে দেখা যায়।
কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রাম থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছেন আব্দুর রহমান নামে একজন কৃষক। তিনি বলেন, এবারের মেলায় কৃষি মেলা না থাকায় কিছুটা হলেও মেলার আকর্ষণ কম হয়েছে। তবে মেলার সুষ্ঠু পরিবেশ তাদের ভালো লেগেছে।
সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সুভাষ দেবনাথ বলেন, মধুমেলা উপলে সাগরদাঁড়িসহ চারপাশের গ্রামগুলোতে শুরু হয়েছে আত্মীয়-স্বজনদের আথিতিয়তা। মেলা ৭ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯ দিন করায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here