জলাবদ্ধতা থেকে উন্মুক্ত হলো ২৫ হাজার বিঘা আবাদি জমি ৩০ বছর পর হাসি ফুটেছে শার্শা সীমান্তের ৫ গ্রামের মানুষের মুখে

0
145
জসিম উদ্দিন, শার্শা : বিলের পানি অপসারণ হওয়ায় দীর্ঘ ৩০ বছর পর হাসি ফুটেছে শার্শা সীমান্ত এলাকার ৫ গ্রামের মানুষের মুখে। বছরের পর বছর বিলের পানি অপসারণ না হওয়া ও জলাবদ্ধতার কারণে ২৫ হাজার বিঘা জমিতে কোন আবাদ করতে পারতোনা এ অঞ্চলের কৃষকরা। এবার বরো আবাদের পাশাপাশি আগামীতে সব ধরনের আবাদ করতে পারবেন বলে জানান স্থানীয়রা। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,
শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা ইছামতী নদীর একটি শাখা থেকে সৃষ্টি ১৫২ টি খাল ও বিল পাড়ের মানুষের আয়ের প্রধান উৎসই ছিলো কৃষি থেকে।
ভারত থেকে আসা উজানের পানি ও বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট পানিতে সব সময় জলাবদ্ধতা থাকায় একটি ফসল ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হতো কৃষকদের। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ অঞ্চলের ৫ গ্রামের মানুষের ২৫ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করে যেন তিন ফসলই ঘরে তুলতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন।  রুদ্রপুর, দাউদখালি, ভবানিপুর, কায়বার ঠ্যাংগামারি বিলের সংযোগ স্থলে নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক মানের সেচ পাম্প  বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এ অঞ্চলের কৃষকদের দু:খ দুর্দশার কথা চিন্তা করে চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ওয়াদা জ্ঞাপন করেন এমপি শেখ আফিল উদ্দিন।
সে কথা রাখতেই চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন তিনি।  শুধু তাই নয় পানি নিষ্কাশনের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হলে শেখ আফিল উদ্দিন রুদ্রপুর, দাউদখালি, ভবানিপুর, কায়বার ঠ্যাংগামারি বিলে এখানকার কৃষকদের সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে ধান রোপণ কাজের শুভ সূচনা করেন।
দীর্ঘ ৩০ বছর পরে কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় খুশি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এ অঞ্চলের মানুষ।
স্থানীয় কৃষক তাইজুল ইসলাম বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের কোল ঘেঁষে বহমান ইছামতী নদী থেকে প্রতি বছর বন্যা ও বর্ষা মৌসুমের পানিতে সারা বছরই পানির নিচে থাকে এ অঞ্চলের এসমস্ত খাল ধারের আবাদি জমি।  কৃষি নির্ভর হলেও এখানকার মানুষের সারা বছর এসমস্ত খাল ও বিল থেকে মাছ ধরে আয় রোজকার বের করতে হতো। সমস্ত প্রতিকুলতা কাটিয়ে আবারও সোনালী ফসল উৎপাদন করতে পারবো আমরা। তাইতো স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনকে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করছি। কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও কায়বা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর পরে হলেও আশার আলো ফুটেছে শার্শা সীমান্তের বিল পাড়ের মানুষের চোখে-মুখে। শেখ আফিল উদ্দিন এমপির হাত ধরে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটার পাশাপাশি শার্শা উপজেলাতে শুধু ধানের আবাদ বৃদ্ধি পেলো ২৫ হাজার বিঘা জমিতে। ধান চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষও বৃদ্ধি পাবে এ সমস্ত জমি থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here