খেজুরের রস পান করিয়ে আনন্দ ও তৃপ্তি উপভোগ করেন বাঘারপাড়ার মাওলানা ফারুক হোসেন 

0
162
বাঘারপাড়া : ঋতু বৈচিত্রে শীতকাল, শীত এলেই গ্রাম বাংলায় ভরে ওঠে খেজুরের রসের ঘ্রাণ। কুয়াশায় ঢাকা জীবন চিত্রে গ্রাম্য ঐতিহ্য, এসময় ব্যস্ত সময় পার করেন গাছিরা। আর শীতের সকালে এক গ্লাস টাটকা খেজুরের রস পান করলে পরম তৃপ্তিতে ভরে যায় প্রানটা। বর্তমানে গাছ ও দক্ষ গাছির অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তা এখন। এখনকার ছেলে মেয়েরা বিভন্ন কোমল পানীয় চিনলেও খেজুরের রসের স্বাদ ও ঘ্রাণ জানে না। তারই ধারাহিকতায় নানা কর্ম ব্যস্তার ভিতর দিয়ে রীতিমতো সংগ্রামে নেমেছেন একজন খ্যাতিমাম গাছি। ৫/৬ বছর পূর্বে এখানে খেজুর গাছ পতিত হয়ে থাকতো কাটার অভাবে। তখন থেকেই চিন্তা চেতনায় নিজ হাতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নেন। সেই সাথেই নিঃস্বার্থে নানা বয়সের মানুষকে রস পান করানো কাজে ছয়বছর পার করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় “যশোরের জশ খেজুরের রস” এমনই একজন মানুষ খুজে পাওয়া গেছে, “রস কাকা নামে পরচিত”। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামে ৭১ বছর বয়সী মাওলানা মোঃ ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি একজন শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং ইউনিয়ন বিবাহ রেজিস্ট্রার কাজী। বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন। প্রতিদিন সকালে রস সংগ্রহের পর সাইকেলে ঝুলিয়ে রসের হাড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুই ছেলে নাজমুস সাকিব, মাহবুব হেলাল ও এক মেয়ে উম্মে হাবিবা তার এই শুভ কাজে সহযোগিতা করে। এবং ছোট ছেলে সাকিব রাস্তায় মাইকিং করে টাটকা রস খাওয়ার জন্য ঘটি, বাটি, মগ, জগ, হাড়ি পাতিল নিয়ে আসতে বলার সাথে সাথে চারিদিক দিয়ে লেপের ভিতর থেকে ছুটে আসতে থাকে ছোট বড় নানা বয়সের মানুষ। আর নিজ হাতে রস ঢেলে পুর্ণ তৃপ্তি করে খেতে বলেন। নিজ হাতে রস খাওয়াতে পেরে পরম আনন্দ আর তৃপ্তিতে ভুলে যান খেজুর গাছ কাটার কাটার কষ্ট। সব পরিচয় পিছনে রেখে সবার কাছে এখন যশোরের জস “রস কাকা” বলেই পরিচিত। শীত আসলে খেজুরের গাছ পরিস্কার পরিছন্ন করেন নিজেই। প্রতিদিন বিকালে গাছ কেটে হাড়ি, ভাড় পেতে রাখেন। পরিবেশ বান্ধব নেট জাল দিয়ে ঢেকে বাদুর, কাঠ বিড়ালী, পাখি থেকে নিরাপদ রাখার জন্য। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, এতিমখানা, মসজিদ, মন্দির সহ বিভিন্ন জায়গায় রস পান করান বলে এলাকাবাসী জানান। তিনি রাস্তার দুপাশে তাল, খেজুরের বীজ বপন করে থাকেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফলজ বনজ জাতীয় গাছের চারা রোপনও করেছেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানবিক কাজে এক দৃষ্টান্ত রেখে যেতে চান সবার কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here