এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুরের জলাবদ্ধ এলাকায় গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন জলাবদ্ধ এলাকার খামারি ও কৃষকেরা। নদ-নদী পলিতে ভরাট হয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ না হওয়ায় উপজেলার সুফলকাটি, পাঁজিয়া, গৌরীঘোনা, মঙ্গলকোট ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার কৃষকরা বিচালির অভাবে গবাদি পশু পালনে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। গরু পালনে বাড়তি টাকা ব্যয়ে খামারীরা বিচালী কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার সুফলকাটি ইউনিয়নে এক হাজার ২৭৪ হেক্টর, পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৬৫০ হেক্টর, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ৫১ হেক্টর, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ১৮১ হেক্টর, কেশবপুর সদর ইউনিয়নে ৯৪ হেক্টর, পৌরসভায় ৩ হেক্টর জমি জলাবদ্ধ রয়েছে। এ সমস্ত জমিতে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক।
সরেজমিন উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সীতা রানী সরকার (৪০) ডিঙ্গি নৌকায় করে জলাবদ্ধ বিলের পানি থেকে গরুর খাদ্যের জন্য কচুরিপনা সংগ্রহ করছেন। তাঁর রয়েছে ৫টি গরু। জলাবদ্ধতার কারণে গতবছর বিলে বোরো আবাদ হয়নি। ইতিমধ্যে বিচালীও ফুরিয়ে গেছে। এ বছর বিলে পানি থই থই করছে। বাধ্য হয়েই ঠান্ডা পানির মধ্য থেকে কচুরিপনা সংগ্রহ করে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে। মনোহরনগর গ্রামের গৃহবধূ মান্দারী রায় (৩৭) বলেন, বিচালী কেনার মতো অবস্থা নেই, তাই বাধ্য হয়ে বিলের মধ্য থেকে কচুরিপনা কেটে বস্তায় করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। তার রয়েছে ৩টি গরু। গোখাদ্যের অভাবে গরুর স্বাস্থ্য টিকিয়ে রাখা হয়েছে দায়।
যশোরের হাশিমপুর থেকে আলমসাধুতে (স্থানীয় বাহন) মনোহরনগর গ্রামে বিচালী বিক্রি করতে এসেছেন রায়হান হোসেন (২৪)। তিনি বলেন, কেশবপুরের জলাবদ্ধ এলাকায় প্রতিদিনই যশোর থেকে বিচালী আনি বিক্রি করতে। এসব এলাকায় বিচালীর চাহিদাও বেশি।
সুফলাকাটি ইউনিয়নের আড়ুয়া গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল গফফার গাজী বলেন, বিল খুকশিয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে গত কয়েক বছর ধরে বোরো আবাদ হয়নি। এলাকায় বিচালীর সংকট দেখা দিয়েছে। মাঠঘাট পানিতে ডুবে থাকায় কাঁচা ঘাসও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি কাউন বিচালী সাত হাজার টাকা করে কিনে গরু পালন করতে হচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জলাবদ্ধ এলাকায় গরুকে খাওয়ানোর জন্য বিচালীর কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে গবাদী পশু পালনকারীরা বাইরে থেকে বিচালী সংগ্রহ করে সংকট মোকাবেলা করে থাকেন।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, নদ-নদী পলিতে ভরাট হওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ছে। নদ-নদী খননের পাশাপাশি ভবদহ অঞ্চলের যে কোন একটি বিলে টি.আর.এম চালু না করা হলে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা আরো বৃদ্ধি পাবে। কৃষক এ ভাবে বোরো আবাদ থেকে বঞ্চিত হতে থাকলে তাদের অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে হবে।















