দুদকে অভিযোগ মসজিদ নেই, আছে ব্যাংক হিসাব ১৮ লাখ টাকা আত্মসাত

0
234

স্টাফ রিপোর্টার : পূর্বের মসজিদ নেই। মডেল মসজিদের কাছে তা হস্তান্তর হয়েছে। কিন্তু পূর্বের ব্যাংক হিসাব হস্তান্তর হয়নি। ফলে মসজিদের সম্পদ থেকে উপার্জিত আয় জমা হচ্ছে পূর্বের ব্যাংক একাউন্টে। আর সেই হিসাব পরিচালনা করছেন পূর্বের মসজিদ কমিটির সভাপতি। আয়-ব্যয়ের হিসাব না থাকায় ওই সভাপতি কাজী শহিদুল হক শাহিনের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে সোমবার (৪ মার্চ) এই অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনা ঘটেছে যশোর শহরের রেলগেট জামে মসজিদ নিয়ে। যে মসজিদ এখন রূপান্তরিত হয়েছে জেলা মডেল মসজিদে। এলাকাবাসী জানান, ১৯৫২ সালে যশোর শহরের রেলগেট এলাকায় রেলগেট জামে মসজিদ স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য এই মসজিদের জায়গাটি নির্বাচিত হয়। সরকারি উদ্যোগে এখানে দৃষ্টিনন্দন জেলা মডেল মসজিদ নির্মিত হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ মসজিদটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে পূর্বের রেলগেট মসজিদটি আর নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পূর্বের মসজিদ হস্তান্তর হয়ে গেলেও মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব হস্তান্তর করা হয়নি। পূর্বের কমিটির সভাপতি শহরের মুজিব সড়ক রেলগেটের বাসিন্দা কাজী শহিদুল হক শাহিন আয়-ব্যয়ের হিসাব নিজের কাছেই রেখেছেন এবং মসজিদের আয়ের সিংহভাগই আত্মসাত করেছেন। এছাড়া পূর্বের রেলগেট মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার সময় ইট, কাঠ, পাথর, কার্পেট, ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পাশাপাশি মসজিদের পুকুর ও জমি পছন্দমত ব্যক্তিদের মধ্যে ইজারা দিয়েছেন তিনি। এ থেকে কত টাকা আদায় করা হয় সেটার কোন হিসেবে দেন না। শুধু তাই না তিনি রেলওয়ের জায়গা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস এবং ঘর ভাড়া দিয়ে অর্থ আয় ও পুকুরের পানিতে পয়ঃনিষ্কাশন করায় পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগে স্বাক্ষর করার কয়েকজনের মধ্যে একজন কাজী অহিদুল ইসলাম রনি। তিনি জানিয়েছেন, সাবেক মসজিদটি ভেঙ্গে ইট বিক্রির টাকার হিসেব দেননি শহিদুল হক শাহিন। এছাড়া সেখানে থাকা ছাত্রাবাসের ভাড়া উত্তোলন করা হয়। মসজিদের নামে তেঁতুলতলায় থাকা দোকান ও গ্যারেজ থেকেও ভাড়ার টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন হিসেবে দিচ্ছেন না। জেলা মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বর্তমান সভাপতি জেলা প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক। তাদের কাছে টাকার হিসেবে বুঝে না দিয়ে শাহিন তালবাহানা করছেন। সাবেক রেলগেট মসজিদের মোয়াজ্জেম মিজানুর রহমান। তিনি বর্তমানে জেলা মডেল মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে দায়িত্বে আছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেলগেট মসজিদের সেসময়ের কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আরেকটি মসজিদ নির্মাণের। কিন্তু গত ৫ বছর হলেও সেই মসজিদ নির্মাণ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদুল হক শাহিন দাবি করেন, কোনো টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি। আমার ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো সোনালী ব্যাংক রেলগেট শাখায় রয়েছে। এ টাকা দিয়ে তেঁতুলতলায় একটি মসজিদ নির্মাণের কথা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা মডেল মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপ-পরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি। দুদক সমন্বতি যশোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন জানিয়েছেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। অভিযোগের ব্যাপারে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here