ঘুম ভেঙ্গেছে যশোর পৌরসভার #যানজট নিরসন, অবৈধ অটোরিকসা ও ইজিবাইক বন্ধে অভিযান

0
159

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে ঘুম ভেঙ্গেছে যশোর পৌরসভার। ফুটপাত দখল, অবৈধ ইজিবাইক-রিকসায় যানজটে শহর অচল হয়ে যাওয়ার পর অভিযানে নেমেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। দু’দিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর ইজিবাইক ও অটোরিকসা চালকরা পৌরসভার এই অভিযানের মুখে পড়লেও ফুটপাত দখলকারী বহুতল ভবন মালিক ও অবৈধ ইজিবাইক-রিকসার গ্যারেজ মালিকরা থাকছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ফলে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রভাবশালীদের কিছুই হচ্ছে না। এ কারণে ফুটপাত দখলকারী বহুতল ভবন মালিক ও অবৈধ ইজিবাইক-রিকসার গ্যারেজ মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। জানা যায়, যশোর জেলা প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহরে যানজটে নিরসনে অবৈধ ফুটপাত দখলদার, অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকসা বন্ধে অভিযান শুরু করেছে পৌরসভা। পৌরবাসীকে যানজটের হাত থেকে স্বস্তি দিতে পুরো রমজান মাস জুড়ে এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। রোববার ও সোমবার সকালে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহমেদের নেতৃত্বে পৌরসভার কর্মী ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। শহরের দড়াটানা, জজকোর্ট মোড়, হাসপাতাল মোড়, চিত্রার মোড়, থানার মোড় এলাকা থেকে শতাধিক ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত অটোরিকসা জব্দ করা হয়। একই সাথে ফুটপাতে দখলকারী দুই শতাধিক অস্থায়ী দোনপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। হরিদাস নামে এক রিকসা চালক বলেন, অটোরিকসা নিয়ে শহরে এসেছিলাম। অভিযানে আমরা রিকসা আটক করেছে। আড়াই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কবে রিকসা হাতে পাবো জানি না, অপেক্ষায় আছি। সুদ করে টাকা জোগাড় করে রিকসা ছাড়াতে এসেছি। আরেক রিকসা চালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, অটোরিকসায় যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলাম। যাত্রী নামিয়ে দিয়ে গাড়ি আটক করেছে। এখন ছাড়াতে না পারলে পরিবার লোকজনের খাবার জোগাড় করতে পারবো না। আমরা আছি বিপদে। গ্যারেজ মালিক শুধু ভাড়া নেয়, কোন দায় দায়িত্ব নেয় না। আব্দুল মাজেদ নামে এক অটোরিকসা চালক বলেন, আমরার মত অনেকেই গ্যারেজের রিকসা ভাড়ায় চালায়। এই অভিযানে তাদেরই ক্ষতি হচ্ছে বেশি। পৌরসভা গ্যারেজ মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সাধারণ দিনমজুর চালকরা কষ্টে আছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহমেদ বলেন, মটরচালিত অটোরিকশার কোন অনুমতি নেই। রমজান মাসে শহরে যানজট কমাতে এবং জনজীবনে চলাচলে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছি। অভিযান পরিচালনা করার আগে সতর্ক করতে দুই দিন আগে মাইকিং করা হয়েছে। জনস্বার্থে এমন অভিযান চলমান থাকবে। গ্যারেজ মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে বিএম কামাল আহমেদ বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করব। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অবৈধ অটোরিকসা ও ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশাবাদী। যশোরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগের যৌথ অভিযানে জব্দকৃত অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকসা চালকদের জরিমানা করে মুচলেকায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। একই সাথে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। এদিকে, পৌরসভার এ অভিযানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা শাখা। সংগঠনের সম্পাদক তসলিম-উর-রহমানের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যশোর পৌরসভা কর্তৃক ফুটপাতে কাজ করে খাওয়া দরিদ্র মানুষকে পুনর্বাসন বাদে উচ্ছেদের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। রোজার আগে দরিদ্র মানুষদের পুনর্বাসন বাদে উচ্ছেদ করে হাজার হাজার মানুষকে পথে বসালো পৌরসভা। এই মানুষেরা কাজ হারালো, পরিবার পরিজনের মুখে অন্ন কিভাবে দেবে পৌরসভা ভাবলো না। যা অমানবিক ও মানুষের মৌলিক (খাদ্যের) অধিকারের উপর আঘাত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here