যশোর প্রতিবেদক : রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা বাঙালি যোগসাধক, দার্শনিক ও ধর্মগুরু শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ১৮৯তম জন্মতিথি উপলে যশোরে তিন দিনব্যাপী উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পূজার্চনা আলোচনা, অন্ন প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উৎসব সমাপ্ত হয়। রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের উদ্যোগে মঙ্গলবার এ উৎসব শুরু হয়।
সমাপনী দিন বিকেলে ‘স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি কাজী নাবিল আহমেদ এমপি বলেন, সকল ধর্মের মূল কথা হলো মানবধর্ম। এমনটাই মনে করতেন দার্শনিক ও ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব। তারই ভাবশিষ্য স্বামীজি সব সময় উদার মানসিকতার ধর্ম হিসেবে মানবধর্মকে প্রচার করতেন। এমনকি ধর্মকে কুসংস্কার থেকে বের করে আনতে ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ েেত্র দেখা যায়, যারা মানুষের কল্যাণে, সমাজের কল্যাণে কাজ করেন তাদের বেশির ভাগেরই পরমায়ু কম হয়। স্বামীজি যদি আরো বেশি দিন বেঁচে থাকতেন তাহলে ভারতবর্ষের মানুষজনের ভেতর থেকে আরো অনেক বেশি পরিমাণে সাম্প্রদায়িক চিন্তা, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ও অন্ধত্ব দূরীভূত হতো।
সভাপতিত্ব করেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে অধ্য স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক সাধন রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ও এমইউসি ফুডস্ লিমিটেড যশোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস। প্রধান আলোচক ছিলেন কোলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক উদ্বোধন পত্রিকার সম্পাদক স্বামী কৃষ্ণনাথানন্দ মহারাজ। আলোচক ছিলেন যশোর জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে সহ-সম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ কোলকাতার সিস্টার মার্গারেট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস ভট্টাচার্য। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শ্যামল চক্রবর্তী। সঞ্চালনা করেন প্রভাষক দেবাশীষ রাহা।
সভায় আলোচকবৃন্দ বলেন, মন ও মননে আমরা সবাই আধুনিক হতে চাই। কিন্তু বাহ্যিকভাবে নয় আধুনিক হতে হবে আত্মিকভাবে। আর আত্মিকভাবে আধুনিক হতে হলে শ্রীরামকৃষ্ণদেব, শ্রীমা সারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতার মত কালোত্তীর্ণ মহীয়সীদের আদর্শ, শিা ও নীতিকে ধারণ, লালন ও চর্চা করতে হবে।
এদিকে এ উৎসব অনুষ্ঠানের সমাপনী দিন দুপুরে মণিরামপুরের সংশপ্তক শিল্পী সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় হয় বিচিত্রানুষ্ঠান। এছাড়া স্থানীয় শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুরবিতান সঙ্গীত অ্যাকাডেমির শিল্পীবৃন্দ।















