কেশবপুরে মৌরি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

0
221

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: কেশবপুরে মৌরি চাষে লোকসান হওয়ায় এ আবাদে এলাকার কৃষকেরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এক সময় মৌরির আবাদ হতো এখানে। গতবছর সাড়ে ৩৭ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ হয়েছিল। তবে এবার সেটা কমে ৩০ বিঘায় এসে দাঁড়িয়েছে। এ চাষে লাভের চেয়ে লোকসানের শঙ্কা থাকায় প্রতিবছর আবাদ কমে যাচ্ছে এবং চাষীরা মৌরি আবাদ থেকে সরে আসছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কেশবপুরে মাত্র ৩০ বিঘা জমিতে মৌরির আবাদ হয়েছে। উপজেলার গৌরীঘোনা, মঙ্গলকোট ও পৌর এলাকার কৃষকেরা এ চাষ করেছেন। এছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নে অল্প চাষ হয়েছে। গত বছর কেশবপুরে সাড়ে ৩৭ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ হয়েছিল। কৃষক অন্য ফসলে লাভবান হওয়ায় মৌরি আবাদ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নে গিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৌরির আবাদ হতো। ইউনিয়নটির পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া ভদ্রা নদীর তীরে বীজ ছিটিয়ে দিলেই এর ব্যাপক ফলন পাওয়া যেতো। ধীরে ধীরে এখানেও মৌরি আবাদ কমে গেছে। উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, গতবছর তিনি ২ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন। এবারও তিনি ২ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ করেছেন। কিন্তু ঠিকমতো বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষেতে গাছের সংখ্যা কম হয়ে গেছে। যে কারণে ফলন কম পাবেন বলে ধারণা করছেন।
উপজেলার কাস্তা গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘বছর তিনেক আগে সর্বশেষ প্রায় এক বিঘা জমিতে মৌরি চাষ করেছিলাম। জমি প্রস্তুত, রোপণ, সার, কিটনাশকসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে লোকসান হওয়ায় এ চাষ ছেড়ে দিয়েছি। খরচের তুলনায় বাজারমূল্যে কম পাওয়ায় আমার মতো অনেকেই এ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ওই জমিতে অন্য ফসল আবাদ করে এখন বেশ লাভবান হচ্ছি।’
মৌরি দেখতে অনেকটাই জিরার মতো। অবসরে মুখশুদ্ধি হিসেবে বা পান খাওয়ার সময় মৌরি খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে হোটেল বা রেস্টুরেন্টে খাবারের পর মৌরি খেতে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে গৌরীঘোনা ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, এলাকার কৃষক ফুল কপিসহ নানা ধরণের সবজি চাষ করে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় মৌরি চাষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর গৌরীঘোনা ইউনিয়নে মৌরি আবাদ কম হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here