কালীগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসক বিষ্ণু ও তার সহযোগীর অপচিকিৎসায় নিঃস্ব খামারির বাছুর ও গাভীর মৃত্যু 

0
174
স্টাফ রিপোর্টার কালিগঞ্জ ,(ঝিনাইদহ) : সনদবিহীন ভুয়া পশু চিকিৎসক বিষ্ণু কুমার দাস ও তার সহযোগী শামীম আহমেদ পলাশ অপচিকিৎসার শিকার হয়ে নিঃস্ব, অসহায় এবং দুস্থ এক খামারির একমাত্র সম্বল গর্ভবতী গাভী ও বাছুর মারা গেছে। গাভীর বাচ্চা প্রস্রাব করাতে যেয়ে দড়ি দিয়ে পা বেঁধে টানা টানি এবং গাভীর জরায়ুতে হাত ঢুকিয়ে অতিরিক্ত টানাটানির  কারণে ঘাড় ভাঙ্গা অবস্থায় জন্ম নেওয়া বাছুরের মৃত্যু হয়।এর ৩ দিন পর গাভী গরুটিও মারা যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায়। ৩১ মার্চ রোববার কাশিমা জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত বঙ্গ দাসের ছেলে কানাই লাল দাস নামের এক খামারি অপচিকিৎসার শিকার হয়ে তার শেষ সম্বল বাছুর সহ গরুটি হারায় । কানাই লাল দাস বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় আমার দেশী জাতের গাভী গরুটির  ডেলিভারির ভাব দেখে স্থানীয় পশু চিকিৎসক বিষ্ণু কুমার দাসকে বাড়িতে ডেকে আনি।প্রথমে বিষ্ণু অনেক চেষ্টা করেও ডেলিভারি করাতে পারে না। পরে বিষ্ণু শামীম আহমেদ পলাশ নামে আরেকজন সনদবিহীন ভুয়া পশু চিকিৎসককে ডেকে আনেন। বিষ্ণু ও পলাশ ডাক্তার দুজনে মিলে  দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং সাঁড়াশি দিয়ে ডেলিভারি করায়। বাছুরটি  ঘাড় ভাঙ্গা অবস্থায় পেটের মধ্যে মারা গিয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিষ্ণুর টানা টানির কারণে এমনটি হয়েছে। এরপর গাভীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।এ সময় প্রায় ৩ হাজার টাকার ওষুধ লিখে দেন এবং গরুকে পানি খাওয়াতে নিষেধ করেন বিষ্ণু ।  ডেলিভারি করানো বাবদ ৭ হাজার টাকা দাবি করেন সে। আমি নিঃস্ব গরিব হওয়ায় তার টাকা দিতে পারিনি। যে কারণে বারবার আমার বাড়ি এসে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে।এদিকে আমার গরু খুব সুস্থ হওয়ার কোন লক্ষন নেয়,এমনকি  গরু খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ঠিকমতো উঠে দাঁড়াতে পারছি না। আমার সুস্থ সবল গরুটি শুধুমাত্র অপচিকিৎসার  কারণে ৩ এপ্রিল রাতে মারা যায়।কানাইলাল দাসের স্ত্রী সাহা রানি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, বিষ্ণু ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আমার গরুর আজ এই অবস্থা। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে আমার বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে কোন রকমে দিনতিপাত করি। এই গরুটি ছিল আমার একমাত্র সম্বল সেটিও মরে গেলো ।আমার ভালো বাছুর ও গরুটি মেরে ফেলল তারা। কে দেবে এই ক্ষতিপূরণ? আমি এর বিচার চাই।
সনদবিহীন ভুয়া পশু চিকিৎসক  বিষ্ণু কুমার দাস বলেন, হ্যাঁ আমি ওখানে চিকিৎসা দিয়েছি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিকিৎসা কেন দিচ্ছেন এমন কোন প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেননি। খামারির ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সেটি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। অপর সনদবিহীন ভুয়া পশু চিকিৎসক শামীম আহমেদ পলাশ বলেন, বিষ্ণু আমাকে ওখানে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা চেষ্টা করেছি বাছুর না বাঁচলে কি করবো বলেন।তিনি স্বীকার করেন প্রাণী চিকিৎসার কোন সরকার অনুমদিত বৈধ সনদ তার নেই  । তিনি আরও বলেন ভাই আমরা গরিব মানুষ। আমাদের ক্ষতি কইরেন না।
 উল্লেখ্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রেজাউল করিম ২৩ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ৩৩,০১,৪৪৩৩.২৫.০০১.২৩-৭৯৫ স্বারক নম্বরে একটি পত্র প্রেরণ করে পৌর এলাকার পাইকপাড়া গ্রামের রঞ্জন কুমার দাসের ছেলে সনদ বিহীন ভুয়া পশু চিকিৎসক বিষ্ণু কুমার দাসকে। পত্রে পশুচিকিৎসা না দেওয়া নির্দেশ দেওয়া। সরকারি এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভুয়া চিকিৎসক বিষ্ণু কুমার নিয়মিত পশু চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন বীরদর্পে।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল করিম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিষ্ণু কুমার দাসের প্রাণী চিকিৎসার ফলে খামারির গরু মারা যাওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। ঘটনাটি আমি শুনেছি। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here