যশোর : যশোরের বাঘারপাড়ায় নকল নোনা ইলিশ তৈরীর কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। উপজেলার সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের জেলে পল্লীতে এ নকল নোনা মাছ তৈরী হচ্ছে। এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের জেলে পল্লীতে যেয়ে দেখা গেছে, কীভাবে নকল নোনা ইলিশ মাছ তৈরী করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন যাবত সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের জেলে পল্লীর বাসিন্দা গৌতম ও উত্তমসহ ৫/৬ জন ব্যক্তি চট্টগ্রাম থেকে চন্দনা ও রুপসী জাতের ট্রাক ট্রাক সাগরের মাছ আমদানী করে জেলে পল্লীতে নিয়ে আসে। এরপর ফিটকেরি ও অন্য একটি রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা প্রথমে মাছ গুলি সাদা করা হয়। তারপর নারী-পুরুষ মিলে ধারালো বটি দিয়ে মাছগুলি কেটে নোনা ইলিশে রুপান্তর করা হয়। নকল নোনা ইলিশ তৈরীর মূল হোতা গৌতম ও উত্তম জানান, এ ব্যাবসা আমাদের জাত ব্যবসা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এ কারবার করে আসছি। রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে মাছ সাদা করা হচ্ছে- এতে মানব দেহের ক্ষতি হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে গৌতম ও উত্তম জানান, এতে মানব দেহের কোনো ক্ষতি হয় না। রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে মাছ সাদা করে লবন মাখালে এটি টাটকা থাকে এবং প্রকৃত নোনা ইলিশে পরিনত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত যেকোন খাদ্য মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। রাসায়নিক পদার্থ মানব দেহের কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করে।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, নকল নোনা ইলিশ মাছ তৈরীর দৃশ্য। এখানকার জেলে পল্লী থেকে দূর দূরান্তের ব্যবসায়ীরা ৫শ’ টাকা কেজি দরে নকল নোনা ইলিশ ক্রয় করে নিয়ে বাজারে ১২/১৪শ’ টাকা কেজি দরে আসল নোনা ইলিশ বলে বিক্রি করছে। এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্রেতা সাধারণ যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তেমনি প্রতারিতও হচ্ছেন। কোনো ঝামেলা ছাড়াই এখানকার জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে নকল নোনা ইলিশ তৈরীর কারবার করে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়। সাধারণ মানুষ এব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা তান্নীর দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি অতি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ^াস দেন।















