যতদূর চোখ যায় মাঠের পর মাঠ পরিপূর্ণ সোনার ফসল

0
208

রাসেল মাহমুদ : যতদূর চোখ যায় মাঠের পর মাঠ পরিপূর্ণ সোনার ফসল; পূবালী বাতাসে ধান গাছের দোল খেলা অপরূপ দৃশ্য’টি নজর কাড়ার মত। একদিকে দিগন্তজুড়ে পাঁকা ফসলের সমারহ অন্যদিকে প্রচন্ড তাপদহ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে কৃষকের কষ্টার্জিত পাঁকা ঘরে তোলার তোড়জোড়। অনেক স্থানেই লেগেছে পাকা ধান কাটার মহাযজ্ঞ। তিব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর, কচুয়া, বসুন্দিয়াসহ আশপাশের গ্রাম অঞ্চলের মাঠে জুড়ে চলছে ধান কেটে ঘরে তোলার কার্যক্রম। জোন, কৃষেন আর গৃহস্থ’রা সবাই এখন ব্যস্ত মাঠের পাকা ধান কেটে বেঁধে গোলায় তুলতে। সরেজমিন ঘুরে চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন পাঁকা ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে। আল্লাহর রহমতে ফলনও বেশ ভালো হয়েছে, এতে করে আমরা মহা খুশি। তবে ফড়িয়া বা মধ্যস্থতাভোগীদের তৎপরতায় ফসলের কাঙ্খিত মূল্য পাওয়া নিয়ে এবারও বেশ শঙ্কায় ধান চাষিরা। তাদের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়ার পরও ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। যদি প্রান্তিক পর্যায়ে প্রকৃত কৃষক বা চাষিদের কাছ থেকে সরকার ধান ক্রয় করে তবেই ন্যায্য মূল্য পাওয়া যেত। সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর, কচুয়া, বসুন্দিয়া সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বহু গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে সোনালি রঙের পাঁকা ধানে পরিপূর্ণ। যতদূর চোখ যায় দেখা মেলে পাঁকা ধানের সমারহ। কোনো কোনো ক্ষেতে কৃষকরা ধান কাটছেন, কেউ ধান কাটায় ব্যস্ত, কেউ বা আঁটি বাঁধায়। আবার কেউ ঘাড়ে বা মাথায় করে ধানের আঁটি নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির উঠানে। তাদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই কারোরই। তিব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সকাল থেকে পড়ন্ত বিকাল পর্যন্ত মাঠে মাঠে ফসল কাটছেন কৃষকরা। একদিকে কৃষকরা ধান কেটে বাড়ির আঙিনায় জড়ো করছেন। অন্যদিকে মেশিন দিয়ে ধান ঝাড়ার কাজ করছে অনেকে। সাথে সাথে ধান মাড়াই শেষে বাতাসে উড়িয়ে বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করে গোলায় তোলার কাজে ব্যস্ত বাড়ি মহিলারাও। কৃষকদের দাবী, সরকার আমন ধানের দাম আগে ভাগে নির্ধারণ করে দিলে তাদের উপকার হতো। গত কয়েক বছর তারা ন্যায্যমূল্য পাননি। আশা করছেন এবার ন্যায্যমূল্য পাবেন। বিভিন্ন প্রতিকূলতা পরও এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here