আজ মহান মে দিবস

0
666

স্টাফ রিপোর্টার : মহান মে দিবসের চেতনায় দেশের শ্রমিক-মালিক
ঐক্য জোরদার করে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক
উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ
তথা উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো; এটাই হোক
আমাদের মে দিবসের অঙ্গীকার । আজ মহান মে দিবস পালিত হচ্ছে।
জীবিকা নির্বাহের মাধ্যমে লুকিয়ে আছে জীবনের সকল
প্রাপ্তি। এজন্য শ্রমের বিনিময়ে তার যথাযথ মূল্যায়ন থাকা চাই।
সে ভাবনার প্রসারতায় শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আন্তর্জাতিক
সংহতি প্রকাশের এক ঐতিহাসিক গৌরবময় দিন আজ। মহান মে
দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। মহান দিবস উপলক্ষে আওয়ামী
লীগের পক্ষ থেকে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশে^র সকল শ্রমজীবী
মেহনতি মানুষকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
ইতিহাস থেকে দেখলে, ১৮৮৬ সালের পহেলা মে যুক্তরাষ্ট্রের
শিকাগো শহরের মার্কেটে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক ৮
ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করে শ্রমিকরা। এতে প্রায়
৩ লাখ মেহনতি মানুষ অংশ নেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ
শ্রমিকদের রুখতে মিছিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।
দাবি আদায়ের জন্য সেদিন শ্রমিকদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত
হয়েছিল শিকাগোর রাজপথ। আন্দোলনে অংশ নেয়ার অপরাধে
ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় গ্রেপ্তারকৃত ৬ শ্রমিককে।
কারাগারে বন্দিদশায় এক শ্রমিক নেতা আত্মহননও করেন।
শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগ ও রক্তস্নাত ঘটনার মধ্যদিয়ে দৈনিক
কাজের সময় ৮ ঘণ্টা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিজয়
হয়। শ্রমিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই সেদিন মালিকরা স্বীকার
করে নিয়েছিল শ্রমিকরাও মানুষ। তারা যন্ত্র নয়, তাদেরও বিশ্রাম ও
বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্যারিসে দ্বিতীয়
আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিবসটিকে মে দিবস
হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই থেকে বিশ্বব্যাপী দিনটি
মহান মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের সকল দেশেই
আজ পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায়
পালনের উদ্দেশ্যে যশোরের শ্রমিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন
কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের
নেতাদের মতে শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদে যে শ্রমিক অধিকার
আন্দোলন হয়েছিল ১৮৮৬ সালে তার চেতনাগত জায়গাটি এখনো

বাস্তবায়ন হয়নি তাদের মতে, দেশের শ্রমিকেরা পৃথিবীর মধ্যে
সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত। শ্রমিকের কর্মঘণ্টা আটঘন্টা হলেও তার
চেয়ে বেশি শ্রম দিতে হয়। তারমানে, শ্রমের মজুরি এতই কম যে,
অতিরিক্ত সময় কাজ না করলে সংসার চলে না। শ্রমিক সংগঠকদের
মতে, বাংলাদেশ লেবার সার্ভে অনুযায়ী, ৬ কোটি ১৪ লাখ শ্রমশক্তি
রয়েছে বাংলাদেশে, যার বড় একটি অংশ- স্বল্প মজুরি, নিম্ন
মজুরি, অতিরিক্ত পরিশ্রমের একটি দুষ্টচক্রে আটকা পড়েছে। তার
ফলে শ্রমিকদের জীবনী শক্তি কমে যাচেছ। হাজারো শ্রমিক কাজ
করে কারখানাগুলোতে, কিন্তু‘ বিশুদ্ধ খাবার পানির কোনো
নিশ্চয়তা নেই। দেশের গতিশীল অর্থনীতির এই সময়ে এসেও
নিম্ন আয়ের শ্রমিকেরা পরিবারপরিজন নিয়ে একরকম অসহায়ের
মধ্যে থাকেন। সারাদিন কাজ করেও মৌলিক চাহিদা মেটানো
তাদের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়ে। শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা
সংগঠকরা মনে করেন, দুনিয়ায় দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে
বাংলাদেশের। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, শ্রমশক্তি। প্রচুর শ্রমশক্তি
রয়েছে এদেশে। অথচ এই শ্রমশক্তিই দুনিয়ার সবচেয়ে
দুর্দশাগ্রস্ত। এখানে শ্রমিকদের মজুরি কম, কাজের কর্মঘণ্টা
বেশি, চাকরি স্থায়িত্ব কম, কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা
নিরাপত্তাহীনতায় থাকে। বিভিন্ন খাতে শ্রমিকেরা প্রতিদিন
ঝুঁকি নিয়েই কাজ করে। উৎপাদশীলতার জন্য এটা মোটেও সুখকর
নয়। শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, ন্যায্য মজুরি, কর্মপরিবেশ,
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে মে দিবসের চেতনা স্বার্থক হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here