ডুমুরিয়ার চেয়ারম্যান গাড়লের চাষ করে লাভবান

0
294
ফরিদুল ইসলাম খান, ডুমুরিয়া( খুলনা) প্রতিনিধি ঃ  ভেড়ার চেয়ে আকারে বড় ও মাংসের পরিমাণ বেশি। তবে দেখতে ভেড়ার মতই। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন ‘গাড়ল’। সারা দেশে ব্যাপকভাবে গাড়ল পালন ছড়িয়ে পড়ছে। ভেড়া পালনের জায়গা এখন গাড়লের দখলে। গাড়ল পালনে খরচ কম, লাভ বেশি হওয়ায় এবং এর চাহিদা বৃদ্ধির পাওয়ায় খুলনার ডুমুরিয়ায় আগ্রহ বেড়েছে খামারীদের।
ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম গত ২০২২ সালের শেষের দিকে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পরামর্শে মাত্র ২০টি গাড়লের বাচ্ছা দিয়ে খামার শুরু করেছিলো। দের বছরের মাথায় লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। এখন তার গাড়ল খামারে ৪৭টি গাড়ল রয়েছে। দুই জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছেন।চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি বাড়ীর পাশে বিশাল টিকলির সরকারি চরন ভুমিতেই ছেড়ে দিয়েই খাদ্যের চাহিদা পুরন হয়। বাড়তি কোন খাদ্যোর প্রয়োজন হয় না। বছরে দুই বার ২ থেকে ৩টি করে বাচ্ছা দিয়ে থাকে গাড়ল। মাজার উপর গাড়ল থাকতে পছন্দ করে। এতে করে স্যাতস্যাতে পরিবেশে পছন্দ করে না। মাচার উপর থাকায় গাড়লের বৃষ্ঠা নীচে পড়ে যায়। নিচে পড়া বৃষ্ঠা জৈব সার হিসাবে বিক্রি করা যায়।
ভেড়ার একটি উন্নত প্রজাতি গাড়ল। এগুলো দেখতে প্রায় ভেড়ার মতো। দেশি ভেড়ার চেয়ে এটি আকারে বড়, মাংসও বেশি হয়। গাড়লের লেজ লম্ব হয়। মাংসের চাহিদা মেটাতে দেশেই এখন ডুমুরিয়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে গাড়লের খামার। গাড়লের খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের। অনেকে সফলতাও পেয়েছে আবার গাড়ল পালন করে, ভাগ্য বদল করে স্বাবলম্বী হয়েছে এলাকার অনেক বেকার যুবক।তবে সরকারি সহযোগীতা ও সহজ শর্তে ঋন পেলে নিজ উদ্যোগে গড়ে উঠবে আরও অনেক গাড়লের খামার এবং মাংসের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে বলেও মনে করেন এসব খামারীরা।
বেকারত্বের হাতছানি থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে পরার্মশ নিয়ে দের বছর আগে অল্প পরিসরে গাড়ল চাষ শুরু করেন চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। বর্তমানে তার খামারে ৪৭টি গাড়ল আছে।
গাড়ল পালনকারী ‌রবিউল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের মাত্র ১লক্ষ‌৫৮ হাজার টাকা মুলধন দিয়ে ১৪টি গাড়লের বাচ্চা কিনে পালন শুরু করি। এর পর থেকে আর পেছনে দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমি শখের বশে গাড়ল পুষতে শুরু করি, এখন‌ বাণিজ্যিকভাবে চাষ  করছেন। এখন গাড়ল থেকে বার্ষিক আয় ৩ থেকে সাড় ৩ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। দুই বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে দুম্বা ও হরিণ পালন করা পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও জানান, গাড়লের মাংস গন্ধ মুক্ত সুস্বাদু। পুষ্টি গুনেও ভাল। দেশের দক্ষিনবঙ্গে এ মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি কেজি মাংস ৯শ থেকে ১হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।অন্য এক গাড়ল খামারী প্রকাশ  জানান, ডুমুরিয়া সদর উপজেলাতে ৭/৮ জন খামারীর প্রায় ১ হাজার গাড়ল প্রজাতির ভেড়া পালন করছে। তুলনামূলক গৃহপালিত অন্য প্রাণির চেয়ে গাড়লের রোগ বালাই কম হয় এবং দ্রুত মাংস বৃদ্ধি হয়। গাড়লের মাংসে চর্বি কম থাকে। তিন বছর আগে এক শিক্ষিত বেকার যুবক কোন কিছু করার উপায় না পেয়ে গাড়ল পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল কবির বলেন, খুলনা জেলায় ডুমুরিয়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি গাড়ল খামার গড়ে উঠেছে। অনেকেই স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে এই গাড়ল পালনে আগ্রহী হচ্ছে। গাড়ল পালনে তেমন বাড়তি খরচ হয় না। গাড়ল তৃন ভুজি প্রাণী। সবুজ ঘাস খেতে পছন্দ করে। চরন ভুমি থাকলে গাড়লের জন্য বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না। তেমন রোগবালাই হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here