এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: হরিহর, আপার-ভদ্রা, হরি, ঘ্যাঁংরাইলসহ বুড়িভদ্রা নদী পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি হলেই পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে এসমস্ত নদ-নদী অববাহিকার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। জলাবদ্ধতা নিরশন কমিটির নেতৃবৃন্দরা এ দাবি তুলেছেন। পানি নিষ্কাশন কমিটির পক্ষ থেকে এলাকায় এলাকায় নদী খননসহ টিআরএম চালুর দাবিতে জনমত গঠনে সভা সমাবেশ অব্যাহত রাখা হয়েছে। খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষও বলছেন নদ-নদী খনন না হলে বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার ৯টি উপজেলার পানি নিস্কাশনের প্রধান নদী যশোরের ভবদহ থেকে হরি নদীর ১৮ কিলোমিটার। হরিহর নদের ৪০ কিলোমিটার, আপার ভদ্রার ১৮ কিলোমিটার, বুড়িভদ্রার ১২ কিলোমিটার নদ-নদী পলিতে ভরাট হয়ে পড়েছে।
হরি-ঘ্যাঁংরাইল নদী অববাহিকা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরশন কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট নদ-নদীসহ বিভিন্ন ক্যানেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত ৮০টি স্লইচ গেট রয়েছে। এ সমস্ত স্লুইচ গেট দিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার হেক্টর এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়ে থাকে। কিন্তু নদ-নদীতে পলি ভরাট হওয়ায় ওই সমস্ত স্লুইচ গেটের অধিকাংশই কোন কাজে আসছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, হরিহর, আপার ভদ্রা ও বুড়িভদ্রা ৫ ফুট পলি পড়ে উঁচু হয়ে গেছে। হরিনদী পলিতে ভটার হয়ে নালায় পরিনত হয়েছে। এ ছাড়াও ঘ্যাঁংরাইল নদীর খর্ণিয়া ব্রীজের ডাউনের চটচটিয়া ব্রীজ পর্যন্ত পলিতে ভরাট হয়ে পড়েছে।
হরি-ঘ্যাঁংরাইল নদী অববাহিকা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এলাকায় টিআরএম চালুসহ নদ-নদী খননের দাবিতে সভা-সমাবেশ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জনমত গঠনের মাধ্যমে আগামীতে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
হরি-ঘ্যাঁংরাইল নদী অববাহিকা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরশন কমিটির সভাপতি মহির উদ্দীন বিশ্বাস বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই হরি, আপার ভদ্রা, বুড়িভদ্রা, ঘ্যাঁংরাইলসহ হরিহর নদ খনন না করা হলে ভারী বর্ষায় কেশবপুর, মণিরামপুর, অভয়নগর, ডুমুরিয়া, ফুলতলার পূর্বাংশ ও তালা উপজেলার উত্তরাংশে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে এ সমস্ত অঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়বে। নদ-নদী খননের পাশাপাশি নদী সংলগ্ন যে কোন একটি বিলে রিভার টাইডাল ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু করা না হলে নদীতে প্রবাহমান ধরে রাখা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে শুধু নদী খনন করলেই হবে না। টিআরএম ছাড়া এ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরশন সম্ভব নয়।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন কমিটির কেশবপুর উপজেলার আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আগামী বর্ষা শুরুর আগেই নদী খনন না হলে কেশবপুরের পাশাপাশি পাশের উপজেলা গুলোর ব্যাপক এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে এ এলাকার মানুষ মহা বিপাকের ভেতরে পড়ে যাবে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে এলাকার কৃষককে পড়তে হবে বেকায়দায়। বর্তমান নদ-নদী গুলোতে কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় নদী না অন্য কিছু তা চেনা বড় মুশকিল হয়ে পড়েছে। কচুরিপানা অপসারণ না হলে নদ-নদীর সৌন্দর্য ফেরানো সম্ভব নয়। তিনিও দাবি করেন ভবদহ এলাকার হরি নদী সংলগ্ন একটি বিলে টিআরএম করা না হলে এ এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে না।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন সিকদার বলেন, হরিহর নদের ৪০ কিলোমিটার, আপার ভদ্রার ১৮ কিলোমিটার, বুড়িভদ্রার ১২ কিলোমিটারসহ হরি নদী পলিতে ভরাট হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই এ সমস্ত নদ-নদী খনন না হলে নদী অববাহিকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সমস্ত নদ-নদী খননের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। খুব শিঘ্রই এ সমস্ত নদ-নদী খনন হবে কিনা তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে ভবদহ ২১ ব্যান্ড স্লুইচ গেটের উজানে ১০ কিলোমিটার খননের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান।















