যশোর প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হাকিমপুর-পারখাজুরা মৎস্যজীবী সমবায় সভাপতির সাবেক সভাপতি অসিত কুমার বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে ক্ষমতাহস্তান্তর না করা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বর্তমান নেতৃবৃন্দের।
সমিতির বর্তমান সভাপতি আবুল কালাম বলেন, গেল ২৩ মে জেলা সমবায় কর্মকর্তা কর্তৃক ডিসপুট শুনানীর মাধ্যমে হাকিমপুর-পারখাজুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পূর্বের কমিটির বিলুপ্তি করে তিন সদস্য বিশিষ্ঠ অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেন মনিরামপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। কমিটিতে আমাকে সভাপতি, আব্দুল মান্নান দফাদার ও আবু বকর গাজীকে সদস্য করা হয়। একই সাথে তিনি কমিটির সাবেক সভাপতি অসিত কুমার বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার মন্ডলকে বর্তমান কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তন্তরের আদেশ দেন।
এরপর থেকে আমি সাবেক সভাপতি অসিত কুমার বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার মন্ডলকে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুরোধ করি। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর না করেই তারা পেশি শক্তি এবং সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষমতা ধরে রেখেছে । গেল ২৬ মে আমি সমিতির অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাঁওড়ের পাড়ে যাই। সেখানে যাওয়া মাত্রই সাবেক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে আসাদ আলী গাজী, আলীম মোড়ল, সোহান, মিজানুর রহমান, আরিফুর রহমান, কাদের মোড়ল, রুহুল আমিন দেশীয় অস্ত্রসহকারে আমাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় করে। হামলায় আনিসুর রহমান, আবুজার গিফারী , ফরহাদ রেজা, মোর্শেদ আলী গাজ গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনায় বাঁওড় পাড়ের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম, সাহেব, শরিফুল, জাহিদ সরদার অনেকেই এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় সমিতির সদস্য আব্দুল গণি বাদী হয়ে অভিযুক্তদের নামে মনিরামপুর থানায় একটি এজহার দায়ের করেন। আসামিরা সমিতির আনিছুর রহমান, আব্দুল গনি ও আবুজার গিফারি অব্যাহতভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে সমিতির সদস্য আব্দুল মান্নান, সিরাজুর ইসলাম রনিসহ অনেকে জানান, দুই বছর পূর্বে হাকিমপুর-পারখাজুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি বাঁওড়ের ইজারা পায়। এরপর সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক তরফাভাবে সমিতি ও বাঁওড়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারা বাঁওড়ের মাছ বিক্রির টাকার কোন হিসাব না দিয়েই কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।
রোববার সমিতির সাবেক সভাপতি অসিত কুমার বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে হাকিমপুর-পারখাজুরা বাঁওড় কমিটির নেতৃবৃন্দ বাঁওড় পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে বাঁওড় কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে এলাকার শত শত নারী পুরুষ অংশ নেন। এসময় বাঁওড়ের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব বিনোদ সরকার বলেন, সারা জীবন বাওড়ের রানী মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছি। আমি শুধু না, আমার বাপ দাদাও একই ভাবে জীবিকা নির্বাহ করে গেছে। কিন্তু অসিত কুমার বিশ্বাস এবং মলয় কুমার মন্ডল সমিতির দায়িত্ব নেবার পর থেকে মাছ ধরা দুরে বাওড়ের পানিতে নামা হারাম হয়ে গেছে। অথচ রানী মাছ ধরার ক্ষেত্রে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।
এ বিষয় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার মন্ডল বলেন, অ্যাডহক কমিটি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। বাঁওড় আমি এবং আমার সভাপতি ইজারা পেয়েছি। এরপর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।















