মণিরামপুরে বেগুন গাছে খিরাই ও উস্তে চাষ করে কৃষক বিজয় খুশি

0
239

মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: মণিরামপুরে বেগুনের বাম্পার ফলন পেয়েও কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে। চাষীরা চড়া দামে জমি লীজ নিয়ে বর্তমান বাজারে বিভিন্ন প্রকার সার ও কীটনাশক ক্রয় করে জমিতে প্রয়োগ করেছে। যখন জমিতে পুরো দমে ফলন এসেছে ঠিক সেই সময় বেগুনের দাম কম থাকায় হাজার হাজার টাকা ধার-দেনা মাথায় নিয়ে আবারো সে জমিতে বেগুন গাছের মধ্যে খিরাই ও উস্তে চাষ করে বর্তমান বাজারে দাম ভাল থাকায় তাদের চোখে মুখে আনন্দের ছোয়া দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে এলাকা থেকে খিরাই ও উস্তে পিকাপ লোড দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রে জানাযায়, মণিরামপুর উপজেলার হুরগাতী, কর্ন্দবপুর, দেলুয়াবাড়ি ও জয়পুর গ্রামের মাঠে বর্তমান বেগুনসহ বিভিন্ন সব্জীর চাষ করে কৃষক সাম্বলী হয়ে উঠেছে। সে কারণে এলাকায় বেগুন চাষ করার জন্য ৪০ শতক জমি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লীজ নিয়ে এবার বেগুন চাষ করে বাম্পার ফলন হওয়ার পরও চাষিদের মাথায় হাত উঠেছে। চাষীদের জমিতে যখন পুরা দমে বেগুন ধরন এসেছে ঠিক তখন প্রতি মন ৪০ কেজি বিক্রি করেছে ৩ থেকে ৪ শত টাকা। তাদের জমি থেকে বেগুন তোলার দামও হয়নি। বর্তমান বাজারে বিভিন্ন প্রকার সার ও কীট নাশকের দাম অনেক বেশি। যে কারণে চাষীরা বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে সার ও কীটনাশক ক্রয় করে জমিতে প্রয়োগ করেছে। ফসল উঠলে তারা বাকি টাকা আস্তে আস্তে পরিশোধ করে দিবে। বর্তমান প্রতিবিঘা জমিতে বেগুন চাষ করতে প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়। কৃষক বেগুন চাষ করে হাজার হাজার টাকা ধার-দেনা মাথায় নিয়ে বেগুনের জমিতে গাছের মধ্যে খিরাই ও উস্তে চাষ করেছে। অনেক চাষির জমিতে পুরো দমে ফলন এসেছে আবার অনেকের জমিতে আসেনি। বর্তমান বাজার খিরাই ও উস্তের দাম ভাল থাকায় কৃষক আশা করছে বেগুনের ঘাটতি এবার পুষিয়ে নিবে। এই আশায় কৃষকের চোখে মুখে আনন্দের ছোয়া দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে হুরগাতী মাঠ থেকে ২ থেকে ৩ টি পিকাপ খিরাই লোড দিয়ে যশোর, খুলনা ও ঢাকার বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। হুরগাতী গ্রামের বেগুন চাষী নুরুজ্জামান জানায়, আমি ১ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে এখনো ৪৫ হাজার টাকা লসে আছি। সেই বেগুন গাছের মধ্যে খিরাই চাষ করেছি। বর্তমান বাজারে খিরার দাম ভাল থাকায় আমি এপর্যন্ত ২৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আশা করি এখনো ৬০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করতে পারবো। কফিল উদ্দিন জানায়, ১৩ কাটা জমিতে বেগুন চাষ করে ১ লক্ষ টাকা ঘাটতি। গরু, ছাগল ও গাছ বিক্রি করে কম বেশি দোকান দেনা দিয়েছি। ওই জমিতে খিরাই ও উস্তে চাষ করেছি এখনো ফল আসেনি। মনে হয় এবার দেনা সব পরিশোধ করতে পারবো। আক্কাজ আলী জানায়, আমি ১ বিঘা জমি ৫০ হাজার টাকা লীজ নিয়ে বেগুন চাষ করেছি। চাষ করতে প্রায় ২লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বেগুন চাষ করে আমি বর্তমান দেড় লক্ষ টাকা লসে আছি। সে জমিতে খিরাই চাষ করে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আশা করি বাজার যদি এরকম থাকে তাহলে ২ লক্ষ টাকা খিরাই ও উস্তে বিক্রি করতে পারবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here