যশোরে পিতা-মাতা হত্যায় ছেলের ভাবী হত্যায় দেবরের ফাঁসির আদেশ

0
278

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের চৌগাছায় মহির ও আনোয়ারা দম্পতি হত্যা মামলায় ছেলে মিলন উদ্দিনকে মৃত্যুদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত। রোববার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (৭ম) আদালতের বিচারক জুয়েল অধিকারী এ আদেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার শাহরিয়ার আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় ভাবী জিনিয়া ইয়াসমিন তুলি হত্যা মামলায় দেবর বিমান বাহিনীর সাবেক কর্পোরাল প্রভোস্ট মোহাম্মদ শাহবুদ্দিনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মামলার অপর দুই আসামি স্বামী জুলফিকার আলী ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক সুরাইয়া সাহাব এই রায় প্রদান করেন। দণ্ডিত মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বাঘারপাড়া উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত মোশারফের ছেলে। আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পিতা-মাতা হত্যা মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি মিলন উদ্দীন (৩২) উচ্ছৃংখল প্রকৃতির ছিল। সে তার পিতা-মাতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়াতো। তাকে কাজকর্ম করার কথা বললেও সে শুনতো না। ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সে তার পিতা মহির উদ্দীনের (৬২), কাছে হাত খরচের জন্য ২ হাজার টাকা চায়। টাকা না দেয়ায় মিলন ঘরে থাকা ধারালো গাছী দা দিয়ে পিতাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। এসময় তার মা আনোয়ারা বেগম (৫৫) ঠেকাতে গেলে মিলন তাকেও কুপিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মহির ও আনোয়ারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় মিলনের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ভাই হুমায়ুন কবির। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রবিবার বিচারক জুয়েল অধিকারী আসামি মিলন উদ্দিনকে মৃত্যুদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। রায় ঘোষণা শেষে বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভাবি হত্যা মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল স্বামী জুলফিকার আলীর সাথে মোবাইলে কথা বলছিলেন তুলি। এসময় দেবর শাহাবুদ্দিন তার ঘরে প্রবেশ করলে শাশুড়ি ফরিদা তার ঘরের দরজা আটকে দেয়। এরপর শাহবুদ্দিন ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তুলিকে জখম করে। এ সময় তুলির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে শাহাবুদ্দিন ও তার মা পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা তুলিকে উদ্ধার করে প্রথমে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করে। পরে সিএমএইচ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরের দিন দুই সন্তানের জননী তুলি মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ঝিকরগাছা উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের শহিদুল বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তুলির দেবর, শাশুড়ির সাথে তার স্বামীর বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তুলির স্বামী জুলফিকার আলীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এ হত্যায় তার স্বামীর প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তুলির দেবর মো. শাহাবুদ্দিনকে ফাঁসি ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। একইসাথে মামলার অপর দুই আসামি স্বামী জুলফিকার আলী ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আদালত দেবর জিনিয়া ইয়াসমিন তুলি হত্যা মামলায় তার দেবর বিমান বাহিনীর সাবেক কর্পোরাল প্রভোস্ট মোহাম্মদ শাহবুদ্দিনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি স্বামী জুলফিকার আলী ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। এদিকে এ রায়ে পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট নয় মামলার বাদী পক্ষ। নিহত তুলির ভাই নূর আলম জানান, জুলফিকার আলী ও তার মা সরাসরি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। চার্জশিটে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ফলে ওই দুই আসামির শাস্তি নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে যাবেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here