মণিরামপুরে অসহায় মানুষের রেমাল ঝড়ে ঘর লন্ডভন্ড বাবা বেচে না থাকায় অভাব অনাটনে ভরা সংসারে

0
145

মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: বাবা বেঁচে না থাকলে তাদের আর কিছু থাকে না পৃথিবীতে। পিতা একজন ভ্যান চালক তাদের ছিলো সুন্দর একটি সংসার। অভাব অনাটনের মধ্যে ছিলো তাদের সংসারে দুই বোন মা ও বাবা। চারজনের সংসারে ছিলো সুখ, শান্তি ও ভালবাসা ভরা। ইছাক আলী ছিলেন প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা যেখানে মিটিং হতো সেখানে ভ্যান চালিয়ে চলে যেতেন। সে ১৩ বছর আগে সাপের কামড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ইছাক আলীর বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর মান্দার বাড়ি প্রথামিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন ঢাকুরিয়া মণিরামপুর রাস্তার পাশে। ইছাক আলী পাঁ দিয়ে প্যাটেল চাপিয়ে ভ্যান গাড়ি চালায়ে সংসার খরচ করে আধাপাকা একটি বাড়ি করার পর তার মৃত হয়। বর্তমান তাদের সংসারে চলছে ভিক্ষা ও অন্য লোকের সাহায্যর মধ্যে। গেল রেমাল ঝড়ে তাদের ঘরের টিনগুলো সব উড়ে গিয়েছে। বৃষ্টি হলে মা আলেয়া বেগম বড় মেয়ে রোজিনা খাতুন ও ছোট মেয়ে ছকিনা খাতুন সবাই ঘরের একটি কোণায় টিন আছে সেখানে বসে থাকে। তাদের না খেয়েও অনেক দিন কাটে। বর্তমান অভাবের কারণে তারা ঘরের টিন ক্রয় ও মিস্ত্রী খরচের টাকা না থাকায় এক মাস অতিবাহিত হলেও ঘরের চাল ঠিক করতে পারছে না। তাদের বাড়ি ঢাকুরিয়া মণিরামপুর রাস্তার পাশে থাকার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘর দেখেও কেউ কোন সাহায্যর হাত বাড়ায়নি। বর্তমান সমাজে অনেক ধনি ব্যক্তি আছে তাদের ঘরের চাল ঠিক করার জন্য কেউ হাত বাড়ানি বলে দাবী। অসহায় ইছকের মেয়ে রোজিনা জানায়, আমাদের কষ্টের কথা কি আর বলবো, পিতা আজ বেঁচে থাকলে এতো কষ্ট হতো না। ঝড়ে ঘরের টিন, কাট বাতা সব কিছু উড়ে গেছে। মা আমাদের তিন বেলা খাবার জুগাড় করার জন্য প্রতিদিন অন্যের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্যর জন্য ঘুরে বেড়ায়। বর্তমান কোন টাকা নায় ঘরের চাল কি করে ঠিক করবো। আকাশে মেঘ দেখলে ঘরের সব খেতা বালিশ পলিথিন কাগজ দিয়ে ঠেকে রাখি। ছোট বোন ছকিনা সে অসুস্থ্য তাকে খুলনা এক ডাক্তার কাছ থেকে ওষুধ খাওয়াতে হচ্ছে। কি ভাবে কি করবো কিছু বলতে পারছি না। বলতে বলতে তার দু’চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি গলে পড়ল। ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আইযুব আলী গাজী জানান, তাদের ঘর আমি দেখেছি। টিন পাওয়ার জন্য তাদের নামে কাগজ তৈরি করে উপজেলায় জমা দিয়েছি। দ্রুত তাদের ঘর মেরামত করে দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here