কালীগঞ্জে সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল  সেন্টারে অন্তঃসত্তার ভুল রিপোর্ট প্রদান

0
703
স্টাফ রিপোর্টার কালিগঞ্জ ,(ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল  সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান গর্ভবতী এক মায়ের আল্ট্রাসনোগ্রাফির ভুল রিপোর্ট প্রদান করে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের আড়মুখী গ্রামের আবু জাফর খা’র স্ত্রী নাসিমা বেগম অন্তঃসত্তা হওয়ার পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী  ৩১ মে কালীগঞ্জ উপজেলা মেইন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল  সেন্টারে যান নিজের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে। প্রতিষ্ঠানটির ডাক্তার রাহুল কর নাসিমা বেগমের আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট প্রদান করেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী নাসিমা বেগমকে জানানো হয়, তার গর্ভে টুইন বেবি অর্থাৎ দুইটি বাচ্চা রয়েছে। এর মধ্যে একটি বাচ্চার  ওজন ৬৫৩ গ্রাম এবং অপরটির ওজন ৫৯৩ গ্রাম। রিপোর্টটিতে বাচ্চা দুইটির পজিশন অর্থাৎ অবস্থানও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। অথচ সন্তান সম্ভবা নাসিমা বেগম ১২ সেপ্টেম্বর আড়মুখী গ্রামে  নিজ বাড়িতে ফুট ফুটে এক  ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অর্থাৎ কালিগঞ্জ সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টার আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট ভুল প্রদান করেছিল নাসিমা বেগমকে।  প্রতিষ্ঠানটি  ভুল রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন বলে আবু জাফর খাঁ ও নাসিমা বেগম দম্পতি অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নাসিমা বেগমের মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদক কে জানান, আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্টে ভুল তথ্য দেওয়ায় আমাদেরকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। রিপোর্টে  দুইটি বাচ্চার কথা বললেও আমার মনে নানা রকম সন্দেহ হয়। যে কারণে আমি একাধিক ডাক্তার দেখায় ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট করায়। তিনি আরও বলেন,এভাবে ভুলভাল রিপোর্ট দিয়ে মানুষের ক্ষতি করা ঠিক না। নাসিমা বেগমের স্বামী আবু জাফর খাঁ জানান, আমার স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট ভুল দিয়েছে সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল  সেন্টার। যে কারণে আমরা কালীগঞ্জের অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ঝিনাইদহ সদরের সমতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করি এবং ডাক্তার দেখায়। এই দুই প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে  আমার স্ত্রীর গর্ভে একটি বাচ্চা রয়েছে বলে জানা যায় । শেষমেষ আমার স্ত্রী একটি সুস্থ ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। কালীগঞ্জের সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল  সেন্টার ভুল রিপোর্ট দিয়ে আমাকে হয়রানি, আমার স্ত্রীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং আর্থিকভাবে ক্ষতি করেছে। আমি এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি ডায়াগনস্টিকএন্ড মেডিকেল  সেন্টারের  সাথে সম্পৃক্ত একজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল  সেন্টার ব্যবসা পরিচালনা করলেও বর্তমানে তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার মান খুব নিম্নমানের। তাছাড়া বর্তমানে সঠিক নিয়ম নীতি মেনে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটি চলছে মেয়াদউত্তীর্ণ সরকারি লাইসেন্স দিয়ে। বর্তমানে সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারের স্বত্বাধিকারী দাবি করা রুহুল আমিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মাসখানেক হতে চলল আমি প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করছি। পূর্বে কি ঘটেছে সেটা আমি বলতে পারবো না। ভুল রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে ভোক্তা হয়রানির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন জানান, অন্তঃসত্তা নারীর আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট ভুল প্রদান করা হলে নানা রকম জটিলতা উত্তর তৈরি হতে পারে। সিটি ডায়াগনস্টিক এন্ড সেন্টার যদি ভুলভাল রিপোর্ট প্রদান করে তাহলে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম জানান,সিটি ডায়গনিস্টিক এন্ড মেডিকেল  সেন্টারের ভুল রিপোর্ট প্রদানের তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে ওই প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here