মিঠুন দত্ত: যশোরে লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট গত চারদিনে একটানা বৃষ্টিতে
অভয়নগরের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে
গেছে। প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট,
ধর্মীয় উপসনালয়। ভেসে গেছে সহস্রাধিক মাছের ঘের ও পুকুর
এবং ফসলী জমি। বিলগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে পানি। প্লাবিত
হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। লঘুচাপের ফলে এখনও বৃষ্টিপাত
অব্যাহত থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলার
ডহর মশিয়াহাটি, সুন্দলী, রাজাপুর, সড়াডাঙ্গা, ভাটবিলা,
গোবিন্দপুর, আড়পাড়া, লক্ষীপুর, রামসরা, হরিশপুর, ডুমুরতলা,
আন্ধা, বলারাবাদ, বেদভিটা, চলিশিয়া, কোটা, বারান্দী,
দিঘলিয়া, দামুখালী, কপালিয়া, দত্তগাতী,
প্রেমবাগ,ধলিরগাতি, বনগ্রাম, জিয়েডাঙ্গা, বালিয়াডাঙ্গা,
ধোপাদী, সরখোলা, বুইকরা, গুয়াখোলাসহ ৩০টি গ্রামের
কোথাও আংশিক আবার কোথাও বেশিরভাগ বাড়ির আঙিনায়
পানি উঠেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক
মানুষ।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা
হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে নারী,পুরুষ ও শিশুমিলে ৮০ জন অবস্থান
করছেন। সেখানে সরকরী উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাক্তিগত
উদ্যেগেও শুকনা ও রান্নাকরা খাবার দেয়া হয়েছে বলে জানা
গেছে।
জানা গেছে, যশোরের সদর উপজেলার আংশিক, অভয়নগর,
মণিরামপুর, কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা
উপজেলার ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয় শ্রী নদীর ওপর
নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে। এই অঞ্চলটি ভবদহ অঞ্চল নামেপরিচিত। ২০১৩ সালের পর এলাকার কোনো বিলে টিআরএম
(টাইডাল রিভার ম্যানেমেন্ট বা জোয়ারাধার ) চালু না থাকায়
পলি পড়ে এলাকার পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী
ও হরি নদীর বুক উঁচু হয়ে গেছে। ফলে নদী দিয়ে পানি
নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এছাড়া এলাকার ৫/৬টি বিলের পানি
নিষ্কাশনের অন্যতমপথ আমডাঙ্গা খালটি সংস্কার না করায় এবং
খালের উপর নির্মিত ব্রীজটি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ওই পথে
ঠিকমত পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এই অবস্থায় বৃষ্টির
পানিতে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বিল উপচে পানি
বিলসংলগ্ন গ্রামগুলোতে প্রবেশ করছে।
চলাচলের কয়েকটি রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে
পড়েছেন মানুষ। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার কয়েকটি
জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জানা গেছে,
ডুমুরতলা-বেদভিটা রোড, বলারাবাদ রোড, আন্দা-বলারাবাদ
রোড, আন্ধাা- ডুমুরতলা, মশিয়াহাটি- সুন্দলীরোড পানিতে
তলিয়ে গেছে।
উপজেলার বেদভিটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো:
নুর ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে ও বারান্দায় পানি উঠে গেছে।
ডুমুরতলা গ্রামের মিলন মন্ডল বলেন, ‘গ্রামের একশ ৫৫ টি
বাড়ির সব বাড়ির উঠানে এক থেকে দুই ফুট জল ওঠেছে।
কয়েকটি বাড়ির ঘরেও জল। আর সামান্য বৃষ্টি হলিই বাড়ি
ছাড়তি অবে।’
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিত
বাওয়ালী বলেন,‘ কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকা ডুবে
গেছে। অভয়নগরের ৩০টি গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
এলাকার বিলগুলোতে জল থৈ থৈ করছে। অনেক মাছেরঘের ও ফসল
তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন,‘ এলাকার বিলে টিআরএম
(জোয়ারাধার) চালু না করলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি নেই।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাম্মদ লাভলী খাতুন জানান,
রোপা আমনের ৫১০ হেক্টরসহ ৩৫ হেক্টর সবজির ক্ষেত তলিয়ে
গেছে।যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ
ব্যানার্জী বলেন,‘ বর্তমানে হরি নদীর ২ দশমিক এক কি.মি
মাটি কাটার কাজ চলছে। ভবদহের ২১ ভেন্টের উপর চারটা বড় ও
পাঁচটা ছোট পাম্প সবসময় চলছে। কিন্তু বিদ্যুতের সমস্যা
হচ্ছে। আর বৃষ্টি না হলে দ্রুত পাম্পদিয়ে পানি সরানো সম্ভব
হবে।’















