চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে
কেন্দ্র করে দুই যুবককে ছুরি মেরে আহত করেছে দূর্বৃত্তরা। শুক্রবার দিবাগত
রাতে বলুহ মেলা চত্ত্বরে এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চার
যুবককে আটক করেছেন।
থানা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের
হাজরাখানা গ্রামে চলমান ঐতিহ্যবাহি বলুহ মেলায় অন্যান্য দিনের মতই
শুক্রবার সারা দিনই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিলে। এদিন সন্ধ্যায় পাশ্ববর্তী
মহেশপুর উপজেলার জলিলপুর গ্রামের মোস্তফা বিশ্বাসের ছেলে মুহিন
আহমেদ রাজ (১৮) এবং একই উপজেলার ক্যামপাড়া গ্রামের আনিছুর
রহমানের ছেলে হৃদয় আহমেদ (২৭) মেলাতে ঘুরতে আসেন। রাত আনুমানিক ৯
টার দিকে তারা মটরসাইকেলে বাড়ির উদ্যেশে রওনা হয়। এসময় মটরসাইকেলের
শব্দ বেশি হওয়ায় তাদেরকে সড়কের উপর থামিয়ে চৌগাছার বাকপাড়া মহল্লার
আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুল্লাহ আল হাসিব ও একই গ্রামের রেজাউল
ইসলামের ছেলে উজ্জল হোসেন গালমন্দ করতে থাকে। তাদের এহেন আচারনের
প্রতিবাদ করলে জনসম্মুখে সড়কের উপর আব্দুল্লাহ আল হাসিব ও উজ্জল
হোসেন যুবকদের ঝাপটে ধরে ছুরি মারতে থাকে। এসময় আত্মরক্ষার্তে দুই
যুবক চিৎকার দেয়ার পাশাপাশি হাত দিয়ে ছুরি ঠেকানোর চেষ্টা করে এতে
তাদের হতে ক্ষত হয়। মেলায় টহলরত থানা পুলিশের ওসি তদন্ত জেল্লাল হোসেন
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে হামলাকারী হাসিবকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন
পালিয়ে যায় উজ্জল হোসেন। ঘটনাস্থল হতে পুলিশ এসময় উপজেলার
সিংহঝুলী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আবুজার, একই গ্রামের
আমিনুর রহমানের ছেলে নাহিদ পারভেজ ও জহুরুল হকের ছেলে রাবিক হোসেন
সাগরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সঞ্চিতা সেন বলেন, আঘাত গুরুতর
না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা চলে গেছেন। আহতের
চাচাতো ভাই তুহিন হোসেন বলেন, তারা উভয় বর্তমানে সুস্থ্য এবং নিজ
বাড়িতেই আছেন।
মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে
কেন্দ্র করে ছুরি মারার ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা
নিয়েছেন। সুন্দর পরিবেশে চলে আসা গ্রামীণ এই মেলাকে যারা অশান্ত
করতে চাই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
চৌগাছা থানার ওসি তদন্ত জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে
বলেন, বাকপাড়া মহল্লার আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুল্লাহ আল হাসিব ও
একই গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে উজ্জল হোসেনকে আসামি করে মামলা
হয়েছে। আসামী উজ্জল হোসেন পলাতক আছে তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সমসয় আটক অন্য তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার ছেড়ে
দেয়া হয়েছে।















